গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুর এলাকায় একটি রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ মার্চ) দুপুরে ওই রাস্তাটি পরিদর্শনে এসে ¯’ানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের একথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাশিমপুর নামাবাজার হতে ধনঞ্জয়খালি প্রাইমারি স্কুল হয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সীমানায় বিল্লালের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি নির্মাণকালে সম্প্রতি মাটির নিচে কয়েক ফুট গর্ত হয়ে দেবে যায়। রাস্তাটি বাস্তবায়ন করছিল গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন।
তিনি জানান, রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ার পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটি প্রচার হয়। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর হলে তিনি বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নোটিশে আনেন। এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে প্রতিমন্ত্রী কে অবহিত করেন। পরিদর্শনকালে উপ¯ি’ত ছিলেন ¯’ানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার, ¯’ানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল কবির ভূঁইয়া, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল হাসান সহ মন্ত্রণালয়ের পদ¯’ কর্মকর্তাগণ।
প্রমন্ত্রণালয়ের সর্বো”চ প্রতিদ্বী দল গঠন¯’ল পরিদর্শন করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এর আগে দু’দিন তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীরা সরজমিনে গঠন¯’ল পরিদর্শন করেছেন। তারা প্রাথমিকভাবে মন্ত্রণালয়ে যে তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দিয়েছেন তাতে প্রাথমিকভাবে যা প্রতিমান হয়েছে রাস্তটিতে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি এখানে এসেছে। টোটাল প্রকল্পের বরাদ্দ ছিল ২২ কোটি টাকা। এর মধ্যে একটি প্যাকেজে ব্যয় ধরা হয় ১২ কোটি টাকা। এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে ছয় কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তার (প্রতিমন্ত্রী) নেতৃত্বে যে প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাঠিয়েছেন প্রাথমিকভাবে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হারুন ও রশিদ ও কাশিমপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি আর কাজ করতে পারবে না। তাদের কালো তালিকায় ভূক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি উ”চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ কাজ চলমান রাখার জন্য এবং এই ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে আর এই ঘটনা সঙ্গে দায়ী এবং কার কার বিরুদ্ধে কি কি ব্যব¯’া গ্রহণ করা যায় এই কাজের সঙ্গে আরও কারা জড়িত বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি উ”চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি কে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট প্রদান করার জন্য বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় কোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি করা হলে সেই রিপোর্ট আর কখনো প্রকাশ পেত না। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আলোর মুখ দেখতো না। তদন্ত কমিটি গঠন করেই দায়িত্ব শেষ করা হতো। এবার আমরা ঘটনা¯’লেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছি।
¯’ানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবকে আহবায়ক এবং একই মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিবকে সদস্য সচিব করে এই উ”চপর্যয়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিত ¯’ানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হাফিজুল্লাহ খান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বুয়েটের একজন বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি, সড়কের জনপদ বিভাগ এবং ¯’ানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন করে প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ কমিটিকে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ রাস্তা যেন করা যায় এবং এই ঘটনার সঙ্গে আরও যারা জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যব¯’া নেওয়া যায় তা পরবর্তীতে জানানো হবে।