• দেশজুড়ে
  • পিরোজপুরে ঈদের ছুটিতে সরকারি গোডাউনের তালা ভেঙে যন্ত্রাংশ বিক্রির অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

পিরোজপুরে ঈদের ছুটিতে সরকারি গোডাউনের তালা ভেঙে যন্ত্রাংশ বিক্রির অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

নেছারাবাদের কৃষি অফিসের গোডাউন থেকে প্রায় ২০০ কেজি যন্ত্রাংশ বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরে ফেলল স্থানীয়রা।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
পিরোজপুরে ঈদের ছুটিতে সরকারি গোডাউনের তালা ভেঙে যন্ত্রাংশ বিক্রির অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

পিরোজপুরের নেছারাবাদে ঈদের ছুটির সুযোগে সরকারি কৃষি অফিসের গোডাউনের তালা ভেঙে পুরোনো যন্ত্রাংশ চুরির পর বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। রোববার (২২ মার্চ) সকালে উপজেলার কৃষি অফিসের গোডাউন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত অসীম কুমার দাস ওই উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

পিরোজপুরের নেছারাবাদে সরকারি সম্পদ চুরির এক নজিরবিহীন অভিযোগ উঠেছে। ঈদের সরকারি ছুটির নিরিবিলি পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে কৃষি অফিসের গোডাউন থেকে যন্ত্রাংশ বিক্রির চেষ্টা করেন অভিযুক্ত এক শিক্ষক। স্থানীয়দের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত মালামালগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও স্থানীয়দের তৎপরতা জানা গেছে, অভিযুক্ত অসীম কুমার দাস (৪৫) উপজেলার ৪৯ নম্বর ব্রাহ্মণকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। রোববার সকালে তিনি বন বিভাগের অফিস সংলগ্ন সরকারি কৃষি অফিসের গোডাউনের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর সেখান থেকে পুরোনো পাওয়ার পাম্প ও ট্রাক্টরের যন্ত্রাংশ বের করে একজন ভাঙ্গারি বিক্রেতাকে ডেকে এনে ওজন দিয়ে বিক্রির চেষ্টা করেন।

সে সময় নেছারাবাদ বন বিভাগের বাগান মালি সেলিম হোসেন ঘটনাটি দেখে ফেলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে কৃষি অফিসের কর্মকর্তা রথীন কুমার ঘরামী ঘটনাস্থলে এসে বিক্রি করতে যাওয়া যন্ত্রাংশগুলো উদ্ধার করেন এবং পুনরায় গোডাউনে রাখার ব্যবস্থা করেন।

ভাঙ্গারি বিক্রেতা ও প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান ভাঙ্গারি দোকানদার আলী হোসেন জানান, শিক্ষক অসীম কুমার তাকে ফোন দিয়ে পুরোনো মালামাল কেনার জন্য ডাকেন। মালামাল দেখে সরকারি গোডাউনের বলে সন্দেহ হলে অসীম কুমার তাকে জানান যে, অফিসাররা এগুলো বিক্রি করতে বলেছেন এবং তাদের কিছু টাকা দিতে হবে। প্রায় ২০০ কেজি ওজনের যন্ত্রাংশ সেখানে ছিল বলে জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী সেলিম হোসেন বলেন, "সকালে বাগানে পানি দেওয়ার সময় দেখি গোডাউনের তালা ভাঙা এবং অসীম স্যার ডিজিটাল মেশিনে যন্ত্রাংশ ওজন দিচ্ছেন। ছুটির সুযোগে সরকারি মালামাল এভাবে বিক্রি করা অত্যন্ত দুঃখজনক।"

অভিযুক্তের বক্তব্য ও প্রশাসনের পদক্ষেপ অভিযুক্ত শিক্ষক অসীম কুমার দাস তার ভুল স্বীকার করে বলেন, "গোডাউনটি দীর্ঘদিন অরক্ষিত ছিল। সেখান থেকে কয়েকটি যন্ত্রাংশ বিক্রি করতে চেয়েছিলাম। এটি আমার ভুল হয়েছে। তবে আমি তালা ভাঙিনি।"

নেছারাবাদ কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে আছেন। ঘটনার কথা শুনে তাৎক্ষণিক সহকর্মীকে পাঠিয়ে মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে এ বিষয়ে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খোন্দকার জসিম আহমেদ জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tags: bangladesh news pirojpur nesharabad government-property-theft teacher-accusation