দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবল পরাশক্তি ভিয়েতনামের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে বাংলাদেশ দলকে। ফিফা র্যাঙ্কিং কিংবা শক্তিমত্তা—সব বিচারেই ভিয়েতনাম এগিয়ে থাকলেও, তাদের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে সমানে সমান পাল্লা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। বৃহস্পতিবারের এই প্রীতি ম্যাচকে (International Friendly) সামনে রেখে দুই শিবিরের রণকৌশল আর কথার লড়াইয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ফুটবল আঙিনা।
ভিয়েতনামের ভাবনায় বদলে যাওয়া বাংলাদেশ ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভিয়েতনাম দলের দক্ষিণ কোরিয়ান কোচ কিম সাং-সিক প্রতিপক্ষ বাংলাদেশকে নিয়ে যথেষ্ট সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। দীর্ঘ বিরতির পর পূর্ণশক্তির দল নিয়ে মাঠে নামা ভিয়েতনাম মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না লাল-সবুজ জার্সিধারীদের। কিম সাং-সিকের মতে, গত এক বছরে বাংলাদেশের ফুটবলে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।
ভিয়েতনাম কোচের বিশেষ নজর এখন বাংলাদেশের ‘প্রবাসী’ বা Diaspora Players-দের দিকে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ফুটবলে খেলা হামজা চৌধুরীকে নিয়ে আলাদাভাবে হোমওয়ার্ক করছে ভিয়েতনামি টেকনিক্যাল টিম। কিম সাং বলেন, “বাংলাদেশ দলে এখন বিদেশে খেলা ফুটবলাররা যুক্ত হয়েছে। আমরা হামজা চৌধুরীর খেলার ভিডিও বিশ্লেষণ (Video Analysis) করেছি। তার শক্তির জায়গাগুলো মোকাবিলা করার জন্য আমরা বিশেষ পরিকল্পনা সাজাচ্ছি।”
কাবরেরার তুরুপের তাস ও রণকৌশল বাংলাদেশের কোচ হাভিয়ের কাবরেরার কাছে এই ম্যাচটি কেবল একটি প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আসন্ন অফিশিয়াল ম্যাচের চূড়ান্ত মহড়া। কাবরেরা মনে করেন, ভিয়েতনামের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়াই করলে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ও ম্যাচ ফিটনেস (Match Fitness) কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
ভিয়েতনাম শিবিরে থাকা ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত দুই ফুটবলার সুয়ান সন ও হোয়াং হেনের আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রশংসা করেন কাবরেরা। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রক্ষণে জমাট বেঁধে থেকে কাউন্টার অ্যাটাক (Counter Attack) নির্ভর ফুটবলের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ভড়কে দিতে চায় তার শিষ্যরা। কাবরেরার ভাষায়, “আমাদের মূল লক্ষ্য সিঙ্গাপুর ম্যাচের প্রস্তুতি। তবে ভিয়েতনামের বিপক্ষে আমরা ডিফেন্সিভ হয়ে থাকব না, বরং চোখে চোখ রেখে লড়াই করব।”
জামাল ভূঁইয়ার আত্মবিশ্বাস ও উন্নতি বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া সংবাদ সম্মেলনে দলের সাম্প্রতিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি স্বীকার করেন যে ভিয়েতনামের মাটিতে তাদের হারানো কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে, তবে অসম্ভব নয়। জামাল বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত উন্নতি করছি। আমাদের বর্তমান স্কোয়াডে যে সামর্থ্য আছে, তাতে আমরা ভিয়েতনামের সঙ্গে সমান তালে লড়াই করতে পারব বলেই বিশ্বাস করি।”
পরীক্ষার মঞ্চ ও লক্ষ্য প্রীতি ম্যাচ হলেও র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতির লক্ষ্যে জয়ের বিকল্প ভাবছে না কোনো পক্ষই। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম সেরা দল ভিয়েতনামের জন্য এটি যেমন নতুন খেলোয়াড় পরখ করার সুযোগ, বাংলাদেশের জন্য এটি তেমনি নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের বড় মঞ্চ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় ভিয়েতনামের মাটিতে শুরু হবে এই শ্বাসরুদ্ধকর ফুটবল যুদ্ধ।
স্বাধীনতা দিবসের এই বিশেষ দিনে ফুটবলাররা দেশবাসীকে একটি দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।