আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে বোস্টনে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামছে ব্রাজিল। তবে এই ম্যাচেও নেইমারকে স্কোয়াডে না রাখায় ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ব্রাজিলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আনচেলত্তি একবারও নেইমারকে ডাকেননি, যা নিয়ে এবার কড়া ভাষায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি।
আনচেলত্তির যুক্তি ও সিদ্ধান্ত সংবাদ সম্মেলনে নেইমার প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে ইতালিয়ান এই কোচ বলেন, "আমি সব দেখছি এবং শুনছি। কিন্তু আমার মূল কাজ হলো দলের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। ফুটবল কোনো ধ্রুব বিজ্ঞান নয় যে সবার মতামত একই হবে। প্রত্যেকের মতামতের প্রতি আমার সম্মান আছে, তবে দলের ভারসাম্য রক্ষায় আমাকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হবে।" তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র নাম নয় বরং বর্তমান ফর্ম ও ফিটনেসই তার কাছে মূল বিবেচ্য।
ক্ষুব্ধ সাবেক তারকারা আনচেলত্তির এই অনমনীয় সিদ্ধান্তে হতাশ ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী তারকারা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপের নায়ক রোমারিও সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, "জাতীয় দল হলো সেরাদের জায়গা। নেইমারের মতো একজন জাদুকর যদি ১০০ ভাগ ফিট নাও থাকে, তবুও সে যেকোনো সাধারণ খেলোয়াড়ের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। তাকে দলে রাখা বাধ্যতামূলক।"
একই সুরে কথা বলেছেন কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও। তার মতে, নেইমার শারীরিকভাবে খেলার যোগ্য থাকলে তাকে অবশ্যই বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়া উচিত। কারণ নেইমারের অভিজ্ঞতা ও কৌশল দলকে বড় টুর্নামেন্টে অনেক সাহায্য করতে পারে।
সতীর্থদের সমর্থন সান্তোসের হয়ে বর্তমানে খেলা নেইমার যে এখনো সতীর্থদের কাছে সেরা, তা স্পষ্ট করেছেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ফাবিনহো। তিনি বলেন, "আমার চোখে নেইমার এখনো ব্রাজিলের সবচেয়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়। সে একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। ফর্মে থাকলে নেইমারই আমাদের সেরা অস্ত্র।"
এখন দেখার বিষয়, কিংবদন্তিদের এই চাপ এবং সমর্থকদের আবেগের মুখে আনচেলত্তি শেষ পর্যন্ত তার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন কি না, নাকি আসন্ন বিশ্বকাপের আগে নেইমারকে পুনরায় হলুদ জার্সিতে দেখা যায়।