গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় গত বুধবার রাতে এক নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটেছে। থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও কয়েকজন কনস্টেবলকে মারধরের অভিযোগে উপজেলা জামায়াতের বায়তুল মাল বিষয়ক সম্পাদক পলাশ আহমেদকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার পর আহত পুলিশ সদস্যদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার নেপথ্য কারণ ও হামলা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পলাশ আহমেদের নেতৃত্বে একদল লোক ওসির কক্ষে প্রবেশ করেন। তারা পলাশবাড়ী বাজারের একটি মুরগির দোকান পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত বিষয়ে ওসির সঙ্গে কথা বলেন এবং তাৎক্ষণিক দোকানটি তালাবদ্ধ করার দাবি জানান। ওসি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবগত করেছেন বলে জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
এক পর্যায়ে হামলাকারীরা ওসির শার্টের কলার ধরে টেনেহিঁচড়ে এলোপাতাড়ি লাথি ও কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। হামলা চলাকালীন তারা থানার সরকারি রেজিস্টারপত্র ছিঁড়ে ফেলেন এবং বাধা দিতে আসা কনস্টেবলদেরও মারধর করেন।
সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসে। সেখানে দেখা যায়, জামায়াত নেতা পলাশ ওসির সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত এবং এক পর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দোকান ঘর বরাদ্দের অভিযোগ নিয়ে যুব জামায়াতের নেতাকর্মীরা থানায় গিয়েছিলেন। ওসি ও তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে অন্য পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তারা। কথা বলার একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মারধরের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও জামায়াত নেতাদের প্রতিক্রিয়া মামলার বাদী সহকারী উপপরিদর্শক রুহুল আমিন বলেন, “পুলিশের ওপর এভাবে অতর্কিত হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি নিজে হাতে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছি। আমরা জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতারা থানায় গিয়েছেন। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যদি কোনো কর্মীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং ইতিমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে।