ইরানের পরমাণু স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের দামামা আরও প্রকট হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) চালানো এই হামলায় ইরানের ইউরেনিয়াম উৎপাদনকেন্দ্র এবং ভারী পানির চুল্লিসহ বেশ কিছু স্পর্শকাতর স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি-র তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী শুক্রবার ইরানের একাধিক পরমাণু স্থাপনায় আক্রমণ চালায়। এর মধ্যে একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র এবং একটি ভারী পানির চুল্লি প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল। এ ছাড়া ইসফাহান প্রদেশের দুটি বড় ইস্পাত কারখানাতেও মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া হামলার পরপরই এক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, ইসরায়েল এই হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক সব শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় করে চালিয়েছে। আরাগচি এক্সে লেখেন, "এই অপরাধের জন্য ইসরায়েলকে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে এবং তাদের কাছ থেকে চড়া মূল্য আদায় করা হবে।"
ট্রাম্পের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এই সংঘাত এমন এক সময়ে ঘটল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার বিষয়ে কিছুটা নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের মতে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের জ্বালানি খাতে সরাসরি হামলা কিছুটা পিছিয়ে দেবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরমাণু স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল ইরানের লাল সীমানা (Red Line) অতিক্রম করেছে। এর ফলে ইরানও পাল্টা বড় ধরনের প্রতিশোধ নিতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদী এবং ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।