মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা এবং ইরানের ড্রোন হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় এক অভাবনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি আরব। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের কাছ থেকে উন্নত অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহায়তা নিতে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে রিয়াদ।
চুক্তির প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্য শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি জানান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে। জেলেনস্কির মতে, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং ইউক্রেনের যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা—এই দুইয়ের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় তৈরি হবে। বিশেষ করে ইউক্রেনের তৈরি সাশ্রয়ী ও কার্যকর 'ইন্টারসেপ্টর ড্রোন' প্রযুক্তি এখন বিশ্বজুড়ে সমাদৃত, যা সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সৌদি আরবের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্প্রতি তেহরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সংঘাতের জেরে সৌদি আরব ক্রমাগত আকাশপথের হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরানের শত শত ড্রোন ও কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। সর্বশেষ শুক্রবারও সৌদি আরবের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এমন পরিস্থিতিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিকীকরণ করা রিয়াদের জন্য অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউক্রেনের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে রাশিয়ার ক্রমাগত ড্রোন হামলার মোকাবিলা করতে গিয়ে ইউক্রেন স্বল্পমূল্যের কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর প্রতিরক্ষা ড্রোন তৈরিতে বিশ্বে শীর্ষস্থান দখল করেছে। ইউক্রেনীয় বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ইউরি চেরেভাশেঙ্কো জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশে ড্রোন পরিচালনা চ্যালেঞ্জিং হলেও তাদের পাইলটদের দক্ষতা ও আধুনিক ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তি যেকোনো ড্রোন হামলা রুখতে সক্ষম।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এই চুক্তির মাধ্যমে কেবল প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়-বিক্রয় নয়, বরং প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ বিনিয়োগের বিষয়গুলোও প্রাধান্য পাবে। যদিও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই চুক্তির বিস্তারিত নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা একে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব হিসেবে দেখছেন।