ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই স্থাপনাটি লক্ষ্য করে এটি তৃতীয় দফা হামলা। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হামলায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রযুক্তিগত বা কাঠামোগত কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
তেহরানের প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
হামলার পর তেহরান থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ইরান বলেছে, শান্তিপূর্ণ পরমাণু স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক নিয়ম ও চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের পারমাণবিক স্থাপনা সামরিক হামলা থেকে সুরক্ষিত থাকা বাধ্যতামূলক। তেহরানের দাবি, এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
আন্তর্জাতিক মহলের শঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরমাণু স্থাপনার সন্নিকটে সামরিক হামলা একটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি করে। যদি কোনো কারণে স্থাপনাটির রিঅ্যাক্টর ক্ষতিগ্রস্ত হতো, তবে তা থেকে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল, যা কেবল ইরান নয়, বরং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জন্যও মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনত।
আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চরম আকার ধারণ করেছে। বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সেই উত্তেজনারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইরান এই হামলার জন্য সরাসরি নির্দিষ্ট কোনো পক্ষকে দায়ী না করলেও তাদের ইঙ্গিত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। পরিস্থিতি বর্তমানে ইরান সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানানো হলেও, এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।