• দেশজুড়ে
  • "রেল খেকো বেলাল ওএসডি" চেয়ার ফিরে পেতে মন্ত্রীর দুয়ারে তদবির

"রেল খেকো বেলাল ওএসডি" চেয়ার ফিরে পেতে মন্ত্রীর দুয়ারে তদবির

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
 "রেল খেকো বেলাল ওএসডি" চেয়ার ফিরে পেতে মন্ত্রীর দুয়ারে তদবির

কামাল পারভেজ, চট্টগ্রাম

রেলওয়ে অঙ্গনে সুপরিচিত নাম রেল খেকো প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিসিএস ) বেলাল। বিগত ফ্যাসিবাদ সরকারের সময়ে রেলের পূর্বাঞ্চল পশ্চিমাঞ্চল দুই অঞ্চলে যার একচেটিয়া আধিপত্য ছিলো বলে সর্বমহলে সমালোচিত। রেলওয়ে দপ্তর নাম বদলে যেনো বেলাল সরকার দপ্তর বলেই সবাই চিনে। পাহাড় সমমান দুর্নীতির অভিযোগ আর দুদকে মামলা থাকার পরও বহাল তবিয়তে চালিয়ে গেছে ঘুষ বাণিজ্য আর টেন্ডার সিন্ডিকেট কর্মকাণ্ড। একবার সাসপেন্ড হলেও স্বল্পসময়ের মধ্যে তা প্রত্যাহার করে পূর্বের চেয়ার ফিরে পেতে সক্ষম হয়। বিগত ফ্যাসিবাদ সরকারের সময়টা যেনো তার নিয়ন্ত্রণের স্বর্গরাজ্য ছিল। দুদকের মামলা যেনো তার টিকেট ছুঁতে পারেনি। এতো অপরাধ আর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যেই করতেন ঘুষ লেনদেন ও ফাইল নয়ছয়। রেলমন্ত্রনালয়ের সাবেক সভাপতি ফজলে করিম চৌধুরী ও তার ছেলে ফরাজ করিম চৌধুরীর আর্শিবাদে নাকি যতোসব অপকর্ম করেও সবকিছু থেকে পার পেয়ে যেতো। ২০২০ সালে রেলের টেন্ডারের কাজ না করেই ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে বহিস্কার হলেও স্বপদে ফিরে নজির স্থাপন করে বেলাল হোসেন সরকার। সেই সময় বিভিন্ন পত্রিকায় ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হয় বেলাল উধাও। অবশ্যই কানাডা পাড়ি দিতে সব প্রস্তুতি নিলে, তৎখনেই ফজলে করিম চৌধুরী আর্শিবাদে পুনরায় চাকুরীতে যোগদান করে।

বেলালের ওএসডি মিষ্টিমুখ: "১ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ৮ কোটিতে ক্রয়" এই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর দৈনিক জাগো জনতা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর পরই নড়েচড়ে বসেন চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তিন সদস্যের একটা তদন্ত কমিটি করা হলে ঐ তদন্ত কমিটি অপারগতা প্রকাশ করে পরবর্তী দুই সদস্যের আরও একটা তদন্ত কমিটি করা হয়। "১ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ৮কোটিতে ক্রয়: পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের টেন্ডার নিয়ে প্রশ্ন" শিরোনামে ১১ মার্চ দৈনিক জাগো জনতা সহ আরো কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হলে বেলাল হোসেন সরকার প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক, পাহাড়তলীকে গত ১৫ মার্চ ২০২৬ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন উপসচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) স্বাক্ষরিত ও স্বারক নং- ৫৪.০০.০০০.০০০.০৪০.১৯.০০১৯.২২.৩৬৬ মূলে মহাপরিচালক দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। তারস্হলে মো আনোয়ারুল ইসলাম সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (পশ্চিম) রাজশাহীকে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক পাহাড়তলী চট্টগ্রাম বদলি করা হয়। ঐদিকে বেলাল হোসেন সরকারকে ওএসডি করার খবর পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে পরলেই সর্বমহলে যেন কানাঘুষা শুরু হয় ক্যান্টিনের টেবিল গুলো হয়ে উঠে চাঙ্গা। অনেকের মাঝে চলে মিষ্টিমুখ। অনেকের মধ্যে বলাবলি করছে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতনের মধ্য দিয়ে রেল খেকো বড় ফ্যাসিবাদের উইকেট পড়ল।

সিসিএস বেলালের জীবন বিলাস: বেলাল হোসেন সরকার ২২তম বিসিএস ব্যাচ।২০০৩ সালে চাকুরীতে যোগদান করে। গাইবান্ধা জেলায় তার আদিবাড়ি। কলেজ ও বুয়েট-এ ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় থাকলেও তৎকালীন বিএনপি নেতাদের সাথে আঁতাত করে এক মন্ত্রীর আর্শিবাদ পুষ্টে চাকরি পায়। পরবর্তিতে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বন্ধুমহলে বেলাল সুচতর বলেও জানা যায়। তার সুবিধা আদায়ের জন্য সব দলের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতেও সক্ষম। বিগত ফ্যাসিবাদ সরকারের সময়ে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়ে উঠে। তারপরও থেমে থাকেনি অপকর্ম। ধরাকে সরা জ্ঞান করাই ছিলো বেলাল হোসেনের কাজ। উপরস্ত কর্মকর্তা থেকে নিম্নস্তরের কর্মচারী সবাই যেনো তার অধীনস্থ কর্মচারী ছিলো। কেউ প্রতিবাদ করলে উল্টো তাকেই হেনেস্হা হতেই হতো। বদলি করে দিত জেলা দপ্তরে। কর্মকর্তাও একরকম জিম্মি থাকতো, কারো কোনো টু-শব্দ করার ক্ষমতাও যেনো হারিয়ে ফেলেছে। বিগত ১৫ বছরে আলাদ্দীনের চেড়াগ বাতি যেনো তার বুগলের নিচে রেখে পাহাড় সমমান অঢেল সম্পদের মালিক বুনে গেছে। গাইবান্ধা পলাশ বাড়িতে ১০ বিঘা সম্পদ গাইবান্ধা জেলা শহরেও ৮ বিঘা সম্পদ ক্রয় করেছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। ঢাকা বসুন্ধরা আবাসিকে দুটি আইকনিক ফ্ল্যাট ও একটা ৪ হাজার স্কুয়ার ফিটের ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা যায়। পরিবারের জন্য দুই বছর পর পর নতুন মডেলের মিতসুবাশিকার যার মূল্য হতে হবে ৫০ লাখ টাকার উর্ধ্বে উপহার হিসেবে দিতো।

সরকারী চাকুরী ও সিন্ডিকেট ঠিকাদারী: বেলাল হোসেন সরকার যে একজন সরকারী কর্মকর্তা তাই নয়। চাকরির পাশাপাশি গড়ে তুলেছিল ঠিকাদারি ব্যবসা। গোপন বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, রেলমন্ত্রনালয়ের সাবেক সভাপতি ফজলে করিম চৌধুরী ও তার ছেলে ফরাজ করিম চৌধুরীর Next Generation Graphics Ltd (NGGL) যা Fav Diesel Sales & Service, গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত। উক্ত গ্রুপের মালিকানায় (অলিখিত চুক্তিতে) রয়েছে। কখনো কোনদিন দুদক মামলা বা কোনো আইনি তাকে আটকাতে না পারে সুকৌশলে কাজ গুলো করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী সরকারের আমলে দুটি ওয়াসিং প্ল্যান করা হয় একটা ঢাকা কমলাপুর রেলস্টেশন আরেকটি রাজশাহী রেলস্টেশনে। প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট ছিল। এই প্রজেক্টের পিডি ছিলো ফকির মুহিউদ্দীন , বর্তমান রেলভবনে জেডিজি পদে দায়িত্ব পালন করছেন । বেলাল হোসেন সরকার ও ফকির মুহিউদ্দীন দুইজনের সিন্ডিকেট করে রেলমন্ত্রনালয়ের সাবেক সভাপতি ফজলে করিম চৌধুরী ও তার ছেলে ফরাজ করিম চৌধুরীর Next Generation Graphics Ltd (NGGL) যা Fav Diesel Sales & Service ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাধ্যমে কাজটি করা হয়। বর্তমানে ওয়াসিং প্ল্যান আতুরের ঘরে পরিনত হয়ে পড়ে আছে। বিষয়টি নিয়ে কয়েক কর্মকর্তার সাথে আলাপকালে জানা যায় প্রথমতো টেঁকসই হয়নি দ্বিতীয় তো পরিকল্পনা বিহীন করা হয়েছে এবং সরকারের হাজার কোটি টাকা পুরোটাই আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও এই মন্তব্য করেন।

কমিশন বাণিজ্য ও সিন্ডিকেট: বাংলাদেশ রেলওয়ে দপ্তরকে বলা হয় কমিশন বাণিজ্যের দপ্তর। যে কোন টেন্ডার পাইতে হলে আগেভাগেই কর্মকর্তাদেরকে ১০% থেকে ২০% কমিশন দিয়ে দিতে হয়। এই নিয়মটি চালু করে বেলাল হোসেন সরকার। রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল ও চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের কয়েক কর্মকর্তাদের নিয়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ উঠে। বেলালের কথায় রাজী না হলে এবং তার সাথে চুক্তি না করলে কাজ চলে যাবে তার অলিখিত মালিকানা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে। ঐদিকে আওয়ামী সরকারের পতনের পর সিন্ডিকেট গড়ে তুলার চেষ্টা করেন জামায়াতের সাথে।

দবির চলছে মন্ত্রীর দুয়ারে: প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিসিএস ) বেলাল হোসেন সরকারকে হঠাৎ ওএসডি করে দিবে সে ভাবতেই পারেনি। দপ্তরে চেয়ার বিহীন হওয়াতে মাথা খারাপের মতোই নাকি গুড়ছে মন্ত্রনালয়। রেল মন্ত্রীকে বুঝানোর চেষ্টা করছে সে ছাত্রদলের কর্মী ছিলো এখন ষড়যন্ত্রের শিকার। মন্ত্রী মহোদয়কে বুঝানোর জন্য ফকির মুহিউদ্দীন ও এক সচিব সহ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।।

Tags: রেল বেলাল ওএসডি মন্ত্রীর দুয়ারে তদবির