বাংলাদেশের রাজনীতিতে নবীন শক্তি হিসেবে পরিচিত ‘জাতীয় যুব শক্তি’র অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। শরীয়তপুর জেলা শাখার নবগঠিত কমিটির ঘোষণা আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন পাঁচজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। সংগঠনের ভেরিফায়েড Facebook পেজে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের পর এই গণপদত্যাগের ঘটনা ঘটে, যা সংগঠনের Internal Politics-এ বড় ধরনের Crisis তৈরি করেছে। তরুণদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই Dissent Central Leadership-এর জন্য একটি কঠিন Challenge নিয়ে এসেছে।
ফেসবুকে পদত্যাগ: ‘সম্মান না দিলে পদ ধরে রাখার প্রয়োজন নেই’
শনিবার (০৮ নভেম্বর, ২০২৫) রাতে কমিটি ঘোষণার পরপরই পদত্যাগকারী নেতারা একে একে Social Media Platform ফেসবুকে তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানান। পদত্যাগকারীদের মধ্যে ছিলেন সদ্য ঘোষিত কমিটির সদস্য সচিব আমিন মোহাম্মদ জিতু, যুগ্ম আহ্বায়ক (৩) মো. কামাল হোসেন সরল, যুগ্ম সদস্য সচিব সাবরিন ইসলাম, সংগঠক রবিউল হাসান এবং যুগ্ম সদস্য সচিব (২) রেজাউল করিম আদিব।
তাদের পদত্যাগের কারণ হিসেবে প্রধানত Post Allocation বা পদ-পদবি বিতরণ নিয়ে তীব্র অসন্তোষকে দায়ী করা হচ্ছে। পদত্যাগী নেতাদের ব্যক্তিগত ক্ষোভ এবং কমিটির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নই এই Fallout-এর মূল কারণ।
নেতাদের গুরুতর অভিযোগ
পদত্যাগী নেতাদের অভিযোগ সংগঠনের অভ্যন্তরে বিদ্যমান বৈষম্য এবং প্রত্যাশা পূরণে Leadership-এর ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করে তোলে।
অজান্তেই কমিটিতে inclusion: যুগ্ম সদস্য সচিব রেজাউল করিম আদিব তার Status-এ দাবি করেন, তাকে কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে তার অজান্তেই। তিনি লেখেন, “কর্মী সংগঠনকে বড় করে তোলে সম্মান দিয়ে। পদ যদি সেই সম্মান না দেয়, তা ধরে রাখারও প্রয়োজন নেই।”
প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া: যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামাল হোসেন সরল অভিযোগ করেন, পূর্বে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নড়িয়া কমিটিতে তাকে আহ্বায়ক করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এখানেও তিনি তার Expected Post পাননি।
আন্দোলনের ত্যাগকে অবজ্ঞা: সংগঠক রবিউল হাসান তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জুলাই আন্দোলনে আমরা মাঠে ছিলাম, রক্ত দিয়েছি। যে পদে রাখা হয়েছে, তার চেয়ে ভালো পদ আমি Deserve করি।”
অজ্ঞাতসারে পদায়ন: যুগ্ম সদস্য সচিব সাবরিন ইসলাম আরও স্পষ্ট করে জানান, কমিটিতে তাকে রাখা হয়েছে, এই বিষয়টি পর্যন্ত তিনি জানতেন না।
সদস্য সচিব আমিন মোহাম্মদ জিতু ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে প্রথমে লিখিত পদত্যাগপত্র ডাকযোগে পাঠানোর কথা জানালেও, বাকিরা Digital Platform-কেই তাদের প্রতিবাদের মঞ্চ হিসেবে বেছে নেন।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের আশ্বাস
এই গণপদত্যাগের ঘটনায় নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক কাওসার মৃধা জানান, তিনি ফেসবুকে পাঁচজনের পদত্যাগের বিষয়টি শুনেছেন, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র পাননি।
অন্যদিকে জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব ডা. জাহেদুল ইসলাম পুরো ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তিনি বলেন, “পাঁচজন সদস্য পদত্যাগ করেছেন এটা গণমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি। Officially এখনো কোনো পদত্যাগপত্র পাইনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
দলীয় সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সংগঠনের Grassroots Level-এ এই অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে এবং আগামীতে আরও পদত্যাগের সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে কেবল কমিটি গঠন নয়, বরং স্বচ্ছতা এবং Meritocracy-র ভিত্তিতে Post Allocation আধুনিক ছাত্র ও যুব সংগঠনের জন্য অপরিহার্য।