রাজধানীর পুরান ঢাকার ব্যস্ততম এলাকা আবারও কেঁপে উঠল গুলির শব্দে। সোমবার (১০ নভেম্বর) প্রকাশ্য দিবালোকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে তারিক সাইফ মামুন নামের এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিতে এসে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি। ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল নৃশংস হত্যাকাণ্ড
এই হত্যাকাণ্ডের এক শিহরণ জাগানো CCTV ফুটেজ ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। ফুটেজে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে স্বাভাবিকভাবেই মানুষজন চলাচল করছে। হঠাৎ এক ব্যক্তি (মামুন) দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন এবং তার পেছনেই অস্ত্র হাতে ধাওয়া করছে দুই দুর্বৃত্ত। কিছু দূর যাওয়ার পর মামুন রাস্তায় পড়ে গেলে ঘাতকরা কাছে এসে তাকে ঘিরে ধরে এবং পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে পরপর বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা। পুরো ঘটনাটি ঘটে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে, যা দেখে যে কেউ স্তম্ভিত হয়ে যাবে।
কে ছিলেন মামুন? কেন এসেছিলেন পুরান ঢাকায়?
নিহত তারিক সাইফ মামুনের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর সদর জেলার মোবারকপুর কলোনি এলাকায়। তিনি এস এম ইকবাল হোসেনের পুত্র। বর্তমানে তিনি স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে ঢাকার বাড্ডা আফতাবনগর এলাকায় বসবাস করতেন।
ঢামেক হাসপাতালে কান্নায় ভেঙে পড়া মামুনের স্ত্রী রিপা আক্তার জানান, "আমার স্বামী ব্যবসার পাশাপাশি বিএনপি সমর্থক ছিলেন। আজ তার কোর্টে একটি মামলার হাজিরা ছিল। সেজন্যই তিনি পুরান ঢাকায় এসেছিলেন। আমরা পরে খবর পাই, আমার স্বামী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আছেন। এখানে এসে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই।" তার এই বক্তব্য হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক শত্রুতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের ভাষ্য
ঘটনার সময় হাসপাতালের সামনে উপস্থিত থাকা এক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, "আমরা হাসপাতালের ভেতরেই ছিলাম। হঠাৎ দেখি, দুই ব্যক্তি একজনকে ধাওয়া করতে করতে গেটের সামনে নিয়ে আসে। প্রথমে তার পায়ে গুলি করে রাস্তায় ফেলে দেয়। এরপর কাছে গিয়ে আরও কয়েকটি গুলি করে পালিয়ে যায়।"
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ছিলেন। গুলির শব্দ শুনে নিচে তাকিয়ে দেখেন এক ব্যক্তি রাস্তায় পড়ে আছেন এবং তার বুক থেকে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার জানান, অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের গুলিতে মামুন গুরুতর আহত হলে তাকে প্রথমে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানিয়েছেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে বিষয়টি অবহিত করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।