• রাজনীতি
  • রাজশাহীতে প্রকাশ্যে মারধর, ভোটের কথা কাটাকাটিতে বিএনপি নেত্রী ও বোনকে স্যান্ডেল দিয়ে পেটালেন জামায়াত কর্মী!

রাজশাহীতে প্রকাশ্যে মারধর, ভোটের কথা কাটাকাটিতে বিএনপি নেত্রী ও বোনকে স্যান্ডেল দিয়ে পেটালেন জামায়াত কর্মী!

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
রাজশাহীতে প্রকাশ্যে মারধর, ভোটের কথা কাটাকাটিতে বিএনপি নেত্রী ও বোনকে স্যান্ডেল দিয়ে পেটালেন জামায়াত কর্মী!

ক্ষতিগ্রস্ত সম্মান ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগে হামলাকারীর স্বীকারোক্তি; থানায় লিখিত অভিযোগ, শুরু হয়েছে পুলিশি তদন্ত।

রাজশাহীর পবা উপজেলার কাটাখালি থানা এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক সংঘাতের খবর সামনে এসেছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির এক নেত্রী ও তাঁর বোনকে প্রকাশ্যে মারধর করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত কর্মীর বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর হরিয়ান ইউনিয়নের নলখোলা আশরাফের মোড় বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

সংঘাতের সূত্রপাত: ভোট ও গুজবের অভিযোগ

ভুক্তভোগী বিএনপি নেত্রী নিলুফার ইয়াসমিন, যিনি হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভানেত্রী এবং নলখোলার বাসিন্দা বাবলু হোসেনের স্ত্রী। অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি তাঁর বোন নূর বানুকে নিয়ে আশরাফের মোড় বাজারে কেনাকাটা করতে যান। সেখানেই স্থানীয় জামায়াত কর্মী নুরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। এসময় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হলে উভয়ের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়।

অভিযোগকারী নিলুফার ইয়াসমিনের দাবি, জামায়াত কর্মী নুরুল ইসলাম একপর্যায়ে অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করেন। পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে গেলে নুরুল ইসলাম পায়ের স্যান্ডেল খুলে বিএনপি নেত্রী নিলুফার ইয়াসমিন এবং তাঁর বোন নূর বানুর মাথা ও মুখে আঘাত করতে থাকেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের পেটেও লাথি মারা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। বাজারের দোকানদার ও অন্যান্য লোকজনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

হামলাকারীর স্বীকারোক্তি ও আত্মপক্ষ সমর্থন

এ ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত জামায়াত কর্মী নুরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা আংশিক স্বীকার করলেও মারধরের অভিযোগের তীব্রতা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি জামায়াতের রাজনীতি করি। কিন্তু বিএনপি নেত্রী নিলুফার ইয়াসমিন এলাকায় প্রচার করেছেন যে আমার স্ত্রী নাকি এর আগে ‘নৌকা’ প্রতীকে ভোট দিয়েছেন। এই ধরনের মিথ্যা গুজব ছড়ানোর ফলে সমাজে আমার সম্মানহানি ঘটেছে। আমি তারই প্রতিবাদ করেছিলাম।”

তিনি আরও বলেন, “উত্তেজনার বশে সামান্য ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে মাত্র। বিষয়টি আমরা স্থানীয়ভাবে মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।”

পুলিশি তৎপরতা ও সাংগঠনিক প্রতিক্রিয়া

ভুক্তভোগী বিএনপি নেত্রী নিলুফার ইয়াসমিন ঘটনার পরই অভিযুক্ত নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরএমপির কাটাখালি থানায় লিখিত অভিযোগ (General Diary - জিডি) দায়ের করেছেন এবং দ্রুত তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। মোড়ের রজব আলী, সবজি বিক্রেতা হেলাল উদ্দিন এবং চা বিক্রেতা মোজাম আলীসহ বাজারের একাধিক ব্যক্তি পুরো ঘটনাটির প্রত্যক্ষদর্শী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পবা উপজেলার হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক এই ঘটনাকে পুরোপুরি সত্য উল্লেখ করে বলেন, “প্রকাশ্যে শত শত মানুষের সামনে দুজন নারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মতো এই কাজ কোনো সভ্য মানুষের হতে পারে না। আমরা আশা করছি, পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে কাটাখালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন জানান, অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম জামায়াতের কর্মী বা সমর্থক হলেও তিনি কোনো পদে নেই। থানায় একটি জিডি নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। ওসি আরও বলেন, “আইন অনুযায়ী পুলিশ অবশ্যই তার কাজ করবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে উভয়পক্ষ স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করলে সেটি তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয়।”

অন্যদিকে, রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সাংগঠনিক সংযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “নুরুল ইসলাম নামে ওই এলাকায় জামায়াতের ইউনিয়ন পর্যায়ের কোনো নেতা বা ‘রোকন’ নেই। তিনি সংগঠনের সমর্থক হতে পারেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ হলে, আমরা তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”