সারা দেশে ‘নাশকতা’ ও ‘আওয়ামী গণহত্যার’ (Awami Massacre) প্রতিবাদে এবং ‘জুলাই সনদের’ (July Charter) আইনি ভিত্তি (Legal Basis) প্রদানের দাবিতে খুলনায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির (Islami Chhatra Shibir)। বুধবার (১২ নভেম্বর) খুলনার শিববাড়ী এলাকায় এই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
মূল দাবি: গণহত্যা ও নাশকতার বিচার
বিক্ষোভ সমাবেশে ইসলামী ছাত্রশিবির খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি আওয়ামী গণহত্যার বিচার এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নাশকতা সৃষ্টির প্রতিবাদ জানিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন।
তিনি বর্তমান শাসকগোষ্ঠীকে আক্রমণ করে বলেন, “ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা দিল্লির তাঁবেদারি করেছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (Indian Intelligence Agency) প্রেসক্রিপশনে নেতারা দেশের আইন প্রণয়নের চেষ্টা করেছে। দেশবিরোধী বিভিন্ন চুক্তি তারা করেছে।” তিনি আরও হুশিয়ারি দেন, “আওয়ামী লীগ যেমন বাংলাদেশে টিকে থাকতে পারেনি, আপনাদের পরিণতিও তেমনি হবে। ছাত্রশিবির দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো নৈরাজ্যের (Anarchy) উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত।”
গণভোট ও নির্বাচনের দাবি প্রসঙ্গে
গণভোটের দাবি নিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বক্তব্যের সমালোচনা করেন শিবির সভাপতি। তিনি বলেন, “আমরা যখন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের দাবি তুলছি, এখন একটি দল তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য নির্বাচনের দাবি তুলছে। তারা বলে গণভোট নভেম্বরে প্রয়োজন নেই, গণভোট জাতীয় নির্বাচনের দিন হবে। তাদের কথা শুনলে মনে হয়, তারা যেন ক্ষমতায় গিয়ে বসে আছে এবং দেশের মানুষ সেটাই শুনবে।”
এ প্রসঙ্গে তিনি নাম উল্লেখ না করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি মন্তব্য নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান। শিবির নেতারা বলেন, “আমরা লক্ষ করছি, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারা যদি ক্ষমতায় যায়, তাহলে নাকি আওয়ামী লীগের সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে। আপনারা এই দুঃসাহসিকতা দেখাবেন না। আওয়ামী লীগকে যেমন দিল্লি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, আপনাদের জায়গা দিল্লিতেও হবে না।”
আগুনসন্ত্রাসের অভিযোগ ও বিচার দাবি
শিবির নেতারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রমের’ অভিযোগ তুলে বলেন, “ছাত্রশিবির আজ যে দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছে, এই দাবি শুধু ছাত্রশিবিরের নয়। এটা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের দাবি। এই দাবি মানতে আপনারা টালবাহানা করবেন না।”
নেতাকর্মীরা আরও বলেন, আগামীকাল (১৩ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (International Criminal Tribunal) ‘খুনি হাসিনার বিচারের রায়’ ঘোষণা করবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ (Arson) ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। গত দুদিনে এই সন্ত্রাসী সংগঠনটির দুর্বৃত্তরা ১৫টির বেশি বাস আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। এই আগুনসন্ত্রাসের (Arson Attack) শিকার হয়ে ময়মনসিংহে ঘুমন্ত অবস্থায় একজন বাসচালক নিহত হয়েছেন বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতারা ঘোষণা দেন, আগামীকাল (১৩ নভেম্বর) খুলনায় ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে গণঅবস্থান কর্মসূচি (Mass Sit-in) পালন করা হবে।