• বিনোদন
  • ডাস্টারের আঘাতে ছাত্রীর মাথা রক্তাক্ত, ক্ষুব্ধ পরীমণি বললেন ‘বিকৃত মানসিকতার লোক’

ডাস্টারের আঘাতে ছাত্রীর মাথা রক্তাক্ত, ক্ষুব্ধ পরীমণি বললেন ‘বিকৃত মানসিকতার লোক’

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
ডাস্টারের আঘাতে ছাত্রীর মাথা রক্তাক্ত, ক্ষুব্ধ পরীমণি বললেন ‘বিকৃত মানসিকতার লোক’

সুনামগঞ্জের স্কুলে প্রধান শিক্ষকের বর্বরোচিত কাণ্ড, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড়।

শিক্ষক-ছাত্রীর পবিত্র সম্পর্ককে কলুষিত করার মতো এক ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে। ক্লাসরুমের ভেতরে এক ছাত্রীকে ডাস্টার দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই পাশবিক ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড়। ঘটনার নৃশংসতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণি।

ক্ষোভে ফুঁসছেন পরীমণি

ঘটনার মর্মান্তিক ভিডিওটি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করে অভিযুক্ত শিক্ষকের মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরীমণি। তিনি তীব্র নিন্দা জানিয়ে লিখেছেন, “কত বড় বিকৃত মানসিকতার বড় লোক! এটা শিক্ষক হয় কীভাবে?” তার এই মন্তব্যটি হাজারো মানুষের ক্ষোভের প্রতিধ্বনি হয়ে উঠেছে, যা এই ঘটনার ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে।

সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা যেকোনো বিবেকবান মানুষকে নাড়া দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ভিডিওতে দেখা যায়, ক্লাস চলাকালীন কিছু শিক্ষার্থী বাইরে ছোটাছুটি করায় ওই প্রধান শিক্ষক শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করে চরম ক্ষিপ্ত অবস্থায় শাসন শুরু করেন। তিনি ক্লাসের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখেন।

এরপরেই ঘটে সেই বর্বরোচিত ঘটনা। কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামনের সারিতে বসা এক ছাত্রীর মাথায় সজোরে ডাস্টার দিয়ে আঘাত করেন ওই শিক্ষক। মুহূর্তেই মেয়েটির মাথা ফেটে রক্ত ঝরতে শুরু করে। কিন্তু তাতেও ক্ষান্ত হননি তিনি। রক্তাক্ত অবস্থাতেই ওই ছাত্রীকে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে ক্লাসের মেঝেতে পড়া রক্ত অন্য একজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে পরিষ্কার করানো হয়, যা ওই শিক্ষকের অমানবিকতার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

সামাজিক মাধ্যমে নিন্দার ঝড়

এই ঘটনার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমগুলোতে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। নেটিজেনরা অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, “বর্তমানে এমন নির্দয় শিক্ষক খুব বেশি দেখা যায় না। মেয়েরা এমনিতেই কোমলমতি, তাদের এমনভাবে আঘাত করা মেনে নেয়া যায় না। প্রধান শিক্ষককে আইনের আওতায় এনে তদন্ত সাপেক্ষে শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।”

আরেকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “ভিডিওটি দেখে স্তব্ধ হয়ে গেলাম। যিনি মানুষ গড়ার কারিগর, তার হাতেই যদি একটি শিশু এভাবে নির্যাতিত হয়, তাহলে আমরা আমাদের সন্তানদের কোথায় পাঠাব? ওনাকে (প্রধান শিক্ষক) বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানাই।” গোটা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম জুড়ে এখন একই দাবি—শিক্ষকের নামে এই কলঙ্ককে আইনের মুখোমুখি করতে হবে।