তারকারাও যে কারও ভক্ত হতে পারেন, সেই চিরচেনা সত্যটিই যেন নতুন করে জীবন্ত হয়ে উঠল বলিউডের জনপ্রিয় চ্যাট শো ‘টু মাচ উইথ কাজল অ্যান্ড টুইঙ্কেল’-এর সেটে। সম্প্রতি এই শো-তে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন বর্তমান প্রজন্মের দুই সফল তারকা কৃতি শ্যানন ও ভিকি কৌশল। পর্বটি সম্প্রচারের আগেই তাদের জীবনের কিছু অজানা গল্প, বিশেষ করে তাদের শৈশবের আইডল হৃতিক রোশনকে ঘিরে করা স্মৃতিচারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার ঝড় তুলেছে।
রাত ২টোর সেই ফোনকল: কৃতির জীবনের সেরা ‘ফ্যানগার্ল মোমেন্ট’
কৃতি শ্যানন শৈশব থেকেই হৃতিক রোশনের একনিষ্ঠ ভক্ত। কৈশোরে তার ঘরের দেয়ালে একমাত্র হৃতিকের পোস্টারই শোভা পেত। কিন্তু তিনি কখনো কল্পনাও করেননি, তার সেই স্বপ্নের নায়ক নিজে থেকেই তাকে ফোন করবেন। বলিউডে কৃতির প্রথম ছবি ‘হিরোপান্তি’ মুক্তির পর ঘটেছিল সেই অবিশ্বাস্য ঘটনা।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কৃতি বলেন, “রাত তখন দুটো বাজে। আমি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখি একটি অচেনা নম্বর। কৌতূহলবশত একটি অ্যাপে নম্বরটি চেক করতেই আমার হৃদস্পন্দন বেড়ে গেল—এটা হৃতিক রোশনের নম্বর!”
ঘটনার আকস্মিকতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন কৃতি। সেই মুহূর্তে ফোন ধরার সাহস হয়নি তার। পরদিন সকালে নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি হৃতিককে ফোন করেন। কৃতির ভাষায়, এটিই তার জীবনের সবচেয়ে বড় এবং ‘ফ্যানগার্ল মোমেন্ট’। নিজের প্রথম ছবির অভিনয় দেখে আইডলের কাছ থেকে পাওয়া সেই প্রশংসা তার কাছে যেকোনো পুরস্কারের চেয়েও দামী।
‘এক পল কা জিনা’-র জন্য ৩ দিনের অনুশীলন: ভিকির হৃতিক-প্রেম
কেবল কৃতিই নন, হৃতিকের প্রতি নিজের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন ভিকি কৌশলও। হৃতিকের প্রথম ছবি ‘কাহো না পেয়ার হ্যায়’ দেখেই তার অন্ধভক্ত হয়ে পড়েছিলেন ভিকি। সেই সময়কার এক মজার স্মৃতি তুলে ধরে তিনি জানান, তার বাবা, প্রখ্যাত অ্যাকশন ডিরেক্টর শ্যাম কৌশল, মজা করে তাকে বলেছিলেন, “হৃতিক কেবল সেই বাচ্চাদের সঙ্গেই দেখা করেন, যারা ‘এক পল কা জিনা’ গানের নাচের স্টেপ নিখুঁতভাবে করতে পারে।”
বাবার এই কথাকে সত্যি মনে করে ছোট্ট ভিকি টানা তিন দিন ধরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সেই আইকনিক ডান্স স্টেপ অনুশীলন করেছিলেন। অবশেষে যখন তিনি হৃতিকের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান, গ্রিক গডের মতো দেখতে সেই অভিনেতা তাকে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান।
তারকাদের এই অকপট স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে, খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছেও তারা তাদের ভেতরের সাধারণ ভক্তসত্তাকে ভোলেননি। আর এই মানবিক গল্পগুলোই তাদের সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে।