অধিনায়কের সেঞ্চুরি ও বাংলাদেশের রানের পাহাড়
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ১ উইকেটে ৩৩৮ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতেই অবশ্য আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটারকে হারায় স্বাগতিকরা। ক্যারিয়ারসেরা ১৭১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে বিদায় নেন মাহমুদুল হাসান জয়। সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েও ৮২ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মুমিনুল হক। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, মাত্র ২৩ রান করে আউট হন তিনি।
এরপরই দলের হাল ধরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস। পঞ্চম উইকেটে এই জুটি ৯৮ রানের এক দুর্দান্ত পার্টনারশিপ গড়ে বাংলাদেশকে বিশাল লিডের পথে নিয়ে যায়। লিটন দাস তার স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মাত্র ৬৬ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৬০ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন।
অন্যপ্রান্তে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি তুলে নেন অধিনায়ক শান্ত। ১১৪ বলে ১৪টি চারের সাহায্যে ঠিক ১০০ রান করে আউট হন তিনি। শেষদিকে মেহেদী হাসান মিরাজ (১৭) এবং হাসান মুরাদের (১৬) ছোট ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ ৩০১ রানের বিশাল লিড নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে।
দ্বিতীয় ইনিংসে আইরিশ ব্যাটিং বিপর্যয়
প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বাংলাদেশী বোলারদের তোপের মুখে পড়ে আয়ারল্যান্ড। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই আগের ইনিংসের অর্ধশতক করা ক্যাড কারমাইকেলকে (৫) বোল্ড করে সাজঘরের পথ দেখান তরুণ পেসার নাহিদ রানা।
দ্বিতীয় উইকেটে পল স্টার্লিং ও হ্যারি ট্যাক্টর ৪৭ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে স্টার্লিংকে (৪৩) রানআউট করে এই জুটি ভাঙেন অধিনায়ক শান্ত। এরপরই আঘাত হানেন তাইজুল ইসলাম, তার ঘূর্ণিতে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন ট্যাক্টর (১৮)।
দিনের শেষভাগে বল হাতে জ্বলে ওঠেন হাসান মুরাদ। পরপর দুই ওভারে কার্টিস ক্যাম্ফার (৫) ও লরকান টাকারকে (৯) আউট করে আইরিশ ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দেন তিনি। তার জোড়া আঘাতেই ইনিংস ব্যবধানে জয়ের স্বপ্ন উজ্জ্বল হয় বাংলাদেশের। দিন শেষে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৯ ওভারে ৫ উইকেটে ৮৬ রান।
এখনও ২১৫ রানে পিছিয়ে থাকা আইরিশদের ইনিংস ব্যবধানে হারাতে চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন মাত্র ৫টি উইকেট। ম্যাচের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, এই জয় এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।