সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্টে বিশাল জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। আইরিশদের বিপক্ষে দাপুটে পারফরম্যান্সের পর নাজমুল হোসেন শান্তর দল এখন ইনিংস ব্যবধানে জয় থেকে মাত্র তিন উইকেট দূরে। চতুর্থ দিনের লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার সময় আয়ারল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান তুলেছে। প্রথম ইনিংসে ৩০১ রানে পিছিয়ে থাকায়, ইনিংস হার এড়াতে তাদের এখনও পাড়ি দিতে হবে ১০৩ রানের বন্ধুর পথ।
চতুর্থ দিনের সকাল: তাইজুল-মুরাদের আঘাতে টালমাটাল আইরিশরা
চতুর্থ দিনের খেলা শুরুর পর থেকেই আইরিশ শিবিরে আঘাত হানার জন্য মরিয়া ছিল বাংলাদেশ। দিনের শুরুতেই সাফল্য এনে দেন অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তার ঘূর্ণি ডেলিভারিতে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে টপ এজ হন ম্যাথু হাম্প্রেস (১৬)। শর্ট ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ারে সহজ ক্যাচটি লুফে নেন সাদমান ইসলাম। ১১৬ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় সফরকারীরা।
এরপর অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবির্নি প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। মেহেদী হাসান মিরাজের এক ওভারে দুটি জোরালো এলবিডব্লিউর আবেদন থেকে রিভিউয়ের কল্যাণে বেঁচেও যান তিনি। তবে এই প্রতিরোধ ভাঙেন তরুণ হাসান মুরাদ। তার দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন ৩৮ রান করা বালবির্নি। এই উইকেট পতনের পরই লাঞ্চের বিরতি ঘোষণা করা হয়।
তৃতীয় দিনের স্পিন দাপট: যেভাবে ধসের শুরু
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় দিন থেকেই বাংলাদেশের স্পিনারদের দাপটে দিশেহারা ছিল আইরিশ ব্যাটিং লাইনআপ। শুরুতেই পেসার নাহিদ রানা চাদ কারমাইকেলকে (৫) বোল্ড করলেও মূল ধ্বংসযজ্ঞ চালান স্পিনাররা। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা পল স্টার্লিংকে (৪৩) রান আউট করে বড় ধাক্কা দেন অধিনায়ক শান্ত।
এরপরই শুরু হয় তাইজুল ও মুরাদের ঘূর্ণি জাদু। তাইজুলের বলে হ্যারি টেক্টর (১৮) এলবিডব্লিউ হন। এরপর কুর্তিস ক্যাম্ফারকে (৫) ফেরান হাসান মুরাদ; এক্সট্রা কভারে বাজপাখির মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে এক অবিশ্বাস্য ক্যাচ নেন সাদমান ইসলাম। মুরাদের দ্বিতীয় শিকার হন লরকান টাকার (৯)। আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও বাংলাদেশের নেওয়া রিভিউতে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হন। ৮৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় আয়ারল্যান্ড।
টাইগারদের রানের পাহাড়: জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন জয়-শান্ত-মুমিনুলরা
এই টেস্টে বাংলাদেশের বিশাল জয়ের মঞ্চ মূলত তৈরি হয়েছিল প্রথম ইনিংসেই। মাহমুদুল হাসান জয়ের অনবদ্য ১৭১, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর অষ্টম টেস্ট সেঞ্চুরি (১০০), মুমিনুল হকের ৮২ এবং সাদমান ইসলামের ৮০ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ৫৮৭ রানের পাহাড় গড়ে। ওয়ানডে মেজাজে খেলা লিটন দাসের ৬৬ বলে ৬০ রানের ইনিংসটিও দলের লিডকে বড় করতে সাহায্য করে।
এই বিশাল সংগ্রহের জবাবে আয়ারল্যান্ডের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ২৮৬ রানে। ফলে ৩০১ রানের বিশাল লিড পায় বাংলাদেশ এবং আয়ারল্যান্ডকে ফলো-অনে পাঠায়। আইরিশ বোলারদের মধ্যে ম্যাথু হাম্প্রেস একাই ৫ উইকেট শিকার করে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার তুলে নেন। তবে তার এই সাফল্য দলের ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্লান হয়ে যায়।