• বিনোদন
  • ২০ কোটি ভিউ-এর সেই ‘সরি দীপান্বিতা’র আকাশ এখন কোথায়? অভিনেতা জীবন রায়ের অভিনয়ের বিরতি, মনোযোগ এখন অর্গানিক কৃষিতে

২০ কোটি ভিউ-এর সেই ‘সরি দীপান্বিতা’র আকাশ এখন কোথায়? অভিনেতা জীবন রায়ের অভিনয়ের বিরতি, মনোযোগ এখন অর্গানিক কৃষিতে

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
২০ কোটি ভিউ-এর সেই ‘সরি দীপান্বিতা’র আকাশ এখন কোথায়? অভিনেতা জীবন রায়ের অভিনয়ের বিরতি, মনোযোগ এখন অর্গানিক কৃষিতে

২০১৪ সালের আলোচিত নাটকের অভিনেতা বর্তমানে একজন 'কৃষক-উদ্ভাবক'। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে গড়ে তুলেছেন ‘অর্গানিক এগ্রো’ এবং ‘সুন্দরী এগ্রো’।

২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘সরি দীপান্বিতা’ নাটকটি সে সময় তরুণদের মধ্যে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছয় বন্ধুর গল্প নিয়ে নির্মিত এই নাটকের 'আকাশ' চরিত্রটির মাধ্যমে পরিচিতি পান জীবন রায়। সম্প্রতি নাটকটির Title Track (শিরোনাম সংগীত) ইউটিউবে ২০ কোটি ভিউ অতিক্রম করেছে, যা বাংলা নাটকের গানের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেই আলোচিত অভিনেতা জীবন রায় এখন অভিনয়ের পাশাপাশি Organic Agriculture (অর্গানিক কৃষি) এবং বিরল স্যান্ড আর্ট (বালুশিল্প) নিয়ে কাজ করছেন।

ইউটিউবে যাত্রা: চ্যানেলের প্রত্যাখ্যান সত্ত্বেও ২০ কোটি ভিউ

‘সরি দীপান্বিতা’ নাটকের পেছনের সংগ্রাম ছিল দীর্ঘ এবং হতাশাজনক। জীবন রায় জানান, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বন্ধুদের জমানো টাকায় তিনি নাটকটি তৈরি করেন। নতুন অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং গল্পের কারণে নাটকটি ৭০-৮০টি ডিভিডিতে কপি করে ২০টিরও বেশি চ্যানেলে গিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো চ্যানেলই এটি নিতে রাজি হয়নি।

অবশেষে ২০১৪ সালে তারা নিজেরাই একটি Gmail Account (জিমেইল অ্যাকাউন্ট) দিয়ে ইউটিউব খুলে নাটকটি Upload (আপলোড) করেন। তখন ইউটিউবের তেমন চল না থাকলেও, নাটকটি দ্রুত দর্শকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে এবং অভাবনীয় সাড়া পায়। জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর দুটি চ্যানেল তাদের না জানিয়েই এটি প্রচার করে, তবে মানুষের কাছে পৌঁছানোর আনন্দে তারা আর কোনো Legal Action (আইনি ব্যবস্থা) নেননি। জীবন রায় জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটকের Premiere Show-এর দিন শুধু ক্যাম্পাস নয়, ময়মনসিংহ শহর থেকেও দর্শকরা ভিড় করেছিলেন, যেখানে ৬০ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছিল।

অভিনয়: ভালো কাজের জন্য অপেক্ষায়

‘সরি দীপান্বিতা’র সাফল্যের পরও জীবন রায় কিছুদিন অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন। তবে ভালো কাজের সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। ২০১৬-১৭ সালে তিনি Reality Show (রিয়েলিটি শো) ‘চ্যানেল আই ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী মেন, পাওয়ার্ড বাই বাংলাদেশ আর্মি’-এ সেরা দশে এসে নির্মাতাদের নজর কাড়েন।

এরপর ২০১৮ সালে সালাহউদ্দিন লাভলুর ধারাবাহিক নাটক ‘প্রিয় দিন প্রিয় রাত’-এ কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আবার আলোচনায় আসেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে আশফাক নিপুনের ‘ফাঁদ ফোকর’ ও ‘বাঘিনী’, মিথুন-অরনীর ‘এভাবেও প্রেম হয়’, গোলাম হাবিবের ‘আইনুদ্দিন চোরা’ এবং আদিফ হাসানের ‘অন্তরজুড়ে’। বর্তমানে ভালো গল্প এবং সঠিক Team (টিম) মিললেই তিনি অভিনয় করেন।

অভিনয় ছেড়ে 'কৃষক' পরিচয়: নিরাপদ খাদ্যের লক্ষ্যে

অভিনয়ের ব্যস্ততার বাইরে জীবন রায় তাঁর পৈতৃক পরিচয়ে ফিরে গেছেন। একজন কৃষিবিদ হিসেবে তিনি বাজারের ফল ও সবজিতে অতিরিক্ত কেমিক্যাল এবং Growth Hormone (গ্রোথ হরমোন)-এর ব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে তিনি গড়ে তোলেন নিজের Agro Farm (কৃষি খামার)।

তিনি সৈয়দপুরে ‘অর্গানিক এগ্রো’ এবং সুন্দরবনের পাশে ‘সুন্দরী এগ্রো’ নামে দুটি খামার প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে ফল ও সবজির পাশাপাশি হাঁস-মুরগি ও মাছের চাষ চলছে। জীবন রায় বলেন, "করোনার সময় সবাই যখন ঘরবন্দী, তখনই ভাবলাম কৃষি দিয়ে কিছু করা যায় কি না। আজকাল ফল বড় ও সুন্দর করতে গ্রোথ হরমোনের ব্যবহার বেড়েছে। একজন কৃষিবিদ হিসেবে আমার লক্ষ্য ছিল যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই Safe Food Production (নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন) করা।"

স্যান্ড আর্টিস্ট হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি

অভিনয় ও কৃষির বাইরে জীবনের আরেকটি বড় পরিচয় হলো তিনি একজন Sand Artist (বালুশিল্পী)। ২০১২ সাল থেকে ইউটিউব ঘেঁটে বালুশিল্প শেখা শুরু করেন এবং ২০১৩ সালে প্রথম Live Show (লাইভ শো) করেন।

২০১৬ সালে পরিচালক রেদওয়ান রনি তাঁর ‘চোরাবালি’ সিনেমার জন্য একজন স্যান্ড আর্টিস্ট খুঁজলে, জীবন রায়ের Career (পেশা)-এর নতুন মোড় আসে। এরপর তিনি ৭০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। দেশ-বিদেশের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং বড় বড় Corporate Event (করপোরেট আয়োজন) ও বিদেশি দূতাবাসের অনুষ্ঠানে তাঁর ডাক পড়ে। তিনি এখন বালুশিল্প শেখার জন্য একটি Training Institute (প্রশিক্ষণমূলক প্রতিষ্ঠান) করার পরিকল্পনা করছেন, যাতে এই বিরল শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা যায়।