লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে আজ এক মহারণের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে (International Friendly) আফ্রিকার শক্তিশালী দেশ সেনেগালের মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। বাংলাদেশ সময় শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাত ১০টায় শুরু হবে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি। আসন্ন বিশ্বকাপের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে এবং সাম্প্রতিক ফর্মের খরা কাটাতে কোচ কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের জন্য এই ম্যাচটি কেবলই প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার লড়াই।
সাম্প্রতিক ফর্ম এবং ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সাম্বা ছন্দে কিছুটা হলেও তাল কেটেছে সাম্প্রতিক সময়ে। যদিও বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলা নিয়ে এবার খুব একটা শঙ্কায় পড়তে হয়নি, তবুও বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে বলিভিয়ার উচ্চতাজনিত কন্ডিশনে হারের স্বাদ পেতে হয়েছে সেলেসাওদের। এশিয়ান ট্যুরে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে স্বস্তি ফিরলেও, জাপানের বিপক্ষে ২-০ গোলের লিড নিয়েও ৩-২ ব্যবধানে হারের স্মৃতি এখনও তাড়া করছে দলকে।
পরিসংখ্যানের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, ২০২৩ সালে লিসবনে এই সেনেগালের বিপক্ষেই ৪-২ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল ব্রাজিল। আজকের ম্যাচ তাই আনচেলত্তির দলের সামনে একাধারে প্রতিশোধ এবং হারের বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসার অগ্নিপরীক্ষা।
রক্ষণভাগে আনচেলত্তির নতুন ছক তেরেঙ্গানাসদের (Lions of Teranga) বিপক্ষে আজকের ম্যাচে শুরুর একাদশে (Starting XI) বেশ কিছু রদবদল আনতে পারেন ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড আনচেলত্তি। গোলপোস্টের নিচে ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে তার্কিশ জায়ান্ট ফেনারবাচেতে পাড়ি জমানো অভিজ্ঞ গোলরক্ষক এদেরসন মোরালেসের ফেরার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তার জায়গায় হুগো সৌজাকে গ্লাভস হাতে দেখলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
ডিফেন্স লাইনে লেফট ব্যাকে মোনাকোর কায়ো হেনরিককে দেখা যেতে পারে। তবে সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে রাইট ব্যাক পজিশনে। প্রথাগত ফুলব্যাকের বদলে রিয়াল মাদ্রিদের সেন্টার ব্যাক এদের মিলিতাওকে এই পজিশনে খেলিয়ে 'ট্যাকটিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট' চালাতে পারেন কোচ। সেন্ট্রাল ডিফেন্স বা হার্ট অফ দ্য ডিফেন্সে পিএসজির অভিজ্ঞ মার্কিনিয়োস এবং আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাঘালহায়েসের জুটি বাঁধার সম্ভাবনাই প্রবল।
মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশেল মিডফিল্ডে 'ডেস্ট্রয়ার' হিসেবে কাসেমিরোর একাদশে থাকা অনেকটাই নিশ্চিত। তার সঙ্গী হিসেবে দেখা যেতে পারে নিউক্যাসলের ব্রুনো গিমারেজকে। তবে মাঝমাঠে সৃজনশীলতার (Creativity) দায়িত্বে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ম্যাথিউস কুনিয়াকে 'নাম্বার টেন' বা প্লে-মেকারের ভূমিকায় দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে রদ্রিগো গোয়েস উইং এবং ফরোয়ার্ড লাইনে পজিশন অদল-বদল করে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করতে পারেন।
আক্রমণভাগে বা ফরোয়ার্ড লাইনে ব্রাজিলের তুরুপের তাস হতে পারেন চেলসিতে খেলা তরুণ সেনসেশন এস্তেভাও উইলিয়াম। আর দলের আক্রমণের মূল নেতৃত্বে থাকছেন রিয়াল মাদ্রিদ সুপারস্টার ভিনিসিউস জুনিয়র, যার গতি এবং ড্রিবলিং সেনেগালের রক্ষণে ভীতি ছড়াতে প্রস্তুত।
সেনেগাল: ছেড়ে কথা বলবে না আফ্রিকান জায়ান্টরাও অন্যদিকে, সেনেগালও বর্তমান ফুটবলে সমীহ জাগানিয়া দল। সাদিও মানে কিংবা কালিদু কাউলিবালি সৌদি লিগে খেললেও ইউরোপীয় ফুটবলে তাদের দাপট ছিল প্রশ্নাতীত। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলা নিকোলাস জ্যাকসন কিংবা ক্রিস্টাল প্যালেসের ইসমাইল সার যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলা একঝাঁক তারকা নিয়ে গড়া সেনেগাল ব্রাজিলের দুর্বলতা কাজে লাগাতে মুখিয়ে থাকবে।
ব্রাজিলের সম্ভাব্য একাদশ (Predicted XI): এদেরসন মোরালেস (ফেনারবাচে), এদের মিলিতাও (রিয়াল মাদ্রিদ), মার্কিনিয়োস (পিএসজি), গ্যাব্রিয়েল মাঘালহায়েস (আর্সেনাল), কায়ো হেনরিক (মোনাকো), কাসেমিরো (ম্যানইউ), ব্রুনো গিমারেজ (নিউক্যাসল), ম্যাথিউস কুনিয়া (ম্যানইউ), রদ্রিগো (রিয়াল মাদ্রিদ), এস্তেভাও উইলিয়াম (চেলসি), ভিনিসিউস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ)।
সেনেগালের সম্ভাব্য একাদশ: এডওয়ার্ড মেন্ডি (আল আহলি), অ্যালেক্সজান্ডার মেন্ডি (মন্টিপেলিয়ের), কালিদু কাউলিবালি (আল হিলাল), মুসা নিয়াখাতে (লিঁও), হাডজি ডিওফ (সাবাস), ইদ্রিসা গুয়ে (এভারটন), পাপে গুয়ে (ভিয়ারিয়াল), মাতার সার (টটেনহ্যাম), ইসমাইল সার (ক্রিস্টাল প্যালেস), নিকোলাস জ্যাকসন (বায়ার্ন মিউনিখ), ইলিম্যান নাদিয়ে (এভারটন)।