ফুটবল মাঠে বর্ণবাদ বা ‘Racism’ রুখতে এবার চূড়ান্ত কঠোর হওয়ার বার্তা দিলেন ফিফা (FIFA) সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। মাঠে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার সময় কোনো খেলোয়াড় যদি হাত বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বলেন, তবে তাকে সরাসরি ‘Red Card’ দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। ইনফান্তিনোর মতে, লুকানোর কিছু না থাকলে কথা বলার সময় মুখ ডাকার কোনো প্রয়োজন নেই।
ভিনিসিউস-প্রেস্তিয়ান্নি বিতর্ক ও ফিফার কঠোর অবস্থান
সম্প্রতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের (Champions League) শেষ-১৬’র প্লে-অফের প্রথম লেগে বেনফিকার আর্জেন্টাইন উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির বিরুদ্ধে রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিউস জুনিয়রকে বর্ণবাদী গালি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ম্যাচের পর ভিনিসিউস সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রা জার্সির আড়ালে মুখ লুকিয়ে তাকে অপমান করেছেন, যা তাদের ‘কাপুরুষতা’রই বহিঃপ্রকাশ।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই ইনফান্তিনো মনে করছেন, ‘Preconception of guilt’ বা অপরাধের পূর্বধারণা থেকেই খেলোয়াড়রা মুখ ঢাকেন। স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যদি কোনো খেলোয়াড় মুখ ঢেকে কিছু বলে এবং তার ফলাফল বর্ণবাদী হয়, তবে তাকে অবশ্যই মাঠ ছাড়তে হবে। আপনার যদি লুকানোর কিছু না থাকে, তবে মুখ ঢাকবেন কেন? বিষয়টি এতটাই পরিষ্কার।”
আইন পরিবর্তনের পথে আইএফএবি (IFAB)
ফুটবলের আইন প্রণেতা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (IFAB) ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। তাদের বার্ষিক সাধারণ সভার পর বৈষম্য মোকাবিলায় নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। যদি এই নিয়মটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়, তবে তা ২০২৬ বিশ্বকাপের (World Cup 2026) আগেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে কার্যকর হতে পারে। এর ফলে মাঠের ভেতরের খেলোয়াড়দের প্রতিটি সংলাপ বা ‘On-field conversation’ স্বচ্ছতার আওতায় আসবে।
শাস্তি না কি সংস্কৃতির পরিবর্তন?
ইনফান্তিনো কেবল শাস্তির ওপর জোর দিচ্ছেন না, বরং ফুটবলীয় সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের শুধু কঠোর হলেই চলবে না, দৃঢ় হতে হবে। শাস্তি যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন খেলোয়াড়দের মানসিকতার পরিবর্তন। কেউ ভুল করলে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে, কিন্তু ঘৃণ্য অপরাধের কোনো জায়গা নেই।”
জোসে মরিনিয়োর পাল্টা যুক্তি
বেনফিকার কোচ জোসে মরিনিয়ো অবশ্য এই বিষয়ে কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি প্রেস্তিয়ান্নির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও ‘নির্দোষতার পূর্বধারণা’র (Presumption of innocence) বিষয়টিও সামনে এনেছেন। মরিনিয়ো বলেন, “আমি আইনজীবী নই, কিন্তু মানবাধিকারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে সেই খেলোয়াড়ের সঙ্গে আমার সব সম্পর্ক শেষ। তবে অভিযোগ প্রমাণের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা কঠিন।”
ফুটবল বিশ্বের বড় একটি অংশ ফিফা সভাপতির এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও, মাঠের উত্তেজনার মুহূর্তে এটি কতটা বাস্তবসম্মত হবে তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। তবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বর্ণবাদ নির্মূলে তারা এখন জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল।