লন্ডনের মাঠে শনিবার রাতে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে সেনেগালকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছে ব্রাজিল। এই জয়ের মাধ্যমে শুধু যে তিনবারের চেষ্টায় সেনেগালের বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল ব্রাজিল তাই নয়, বরং আড়াই বছর আগে ৪-২ গোলে হারের একটি স্মৃতিও মুছে ফেলল। কার্লো আনচেলত্তির ট্যাকটিক্যাল ছকে ব্রাজিল প্রমাণ করল, তারা সঠিক পথেই এগোচ্ছে।
মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে এর আগে অস্বস্তিতে থাকা সেলেসাওরা এই জয়ে নতুন ইতিহাস লিখল। ২০১৯ সালের প্রথম দেখায় ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল, আর এরপরের দেখায় হেরেছিল ব্রাজিল। এই জয়টি তাই শুধু একটি সাধারণ প্রীতি ম্যাচের ফলাফল নয়, বরং আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের একটি বড় মঞ্চ।
প্রথমার্ধেই ব্রাজিলের জোড়া গোল ও আধিপত্য ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিল ছিল আক্রমণাত্মক মেজাজে। ভিনিসিউস জুনিয়র, রদ্রিগো এবং ম্যাথিউস কুনিয়ার সমন্বয়ে গড়া আক্রমণভাগ সেনেগালের রক্ষণকে ক্রমাগত চাপে রাখে। ম্যাচের ২৮তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ক্যাসেমিরোর একটি পাস সেনেগালের ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে চলে আসে তরুণ উইঙ্গার এস্তেভাও উইলিয়ানের কাছে। বক্সের ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া তাঁর বিদ্যুৎগতির শট সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্ডিকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। পালমেইরাসের এই তরুণ তুর্কির গোলে লিড পায় ব্রাজিল।
প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র সাত মিনিটের মাথায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো। বক্সের সামান্য বাইরে থেকে রদ্রিগোর নেওয়া একটি দুর্দান্ত ফ্রি-কিক সেনেগালের রক্ষণ দেয়ালে প্রতিহত হয়। তবে ফিরতি বলটি অরক্ষিত অবস্থায় পেয়ে যান ক্যাসেমিরো। ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত প্লেসিং শটে তিনি বল জালে জড়ান। প্রথমার্ধে বলের possession এবং আক্রমণে ব্রাজিলের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল স্পষ্ট।
দ্বিতীয়ার্ধে সেনেগালের লড়াই ও এদেরসনের ভুল দুই গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর মরিয়া চেষ্টা করে সাদিও মানের সেনেগাল। তারা বল দখলে এগিয়ে যায় এবং ব্রাজিলের রক্ষণে বেশ কয়েকবার হানা দেয়। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে ব্রাজিল গোলরক্ষক এদেরসন মোরালেসের একটি বড় ভুলের সুযোগ প্রায় নিয়েই ফেলেছিল সেনেগাল। সতীর্থের ব্যাকপাস ক্লিয়ার করতে দেরি করায় সেনেগালের ফরোয়ার্ড নিকোলাস জ্যাকসন চাপ সৃষ্টি করেন। এদেরসনের দুর্বল পাস চলে যায় ইলিম্যান এনদিয়ায়ের কাছে, কিন্তু তাঁর শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে সে যাত্রায় বেঁচে যায় ব্রাজিল।
তবে এরপর ব্রাজিলও সুযোগ নষ্ট করেছে। সেনেগালের গোলরক্ষক মেন্ডির ভুলেও গোল করতে ব্যর্থ হন রদ্রিগো। ৬১তম মিনিটে রদ্রিগোর আরেকটি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দুই দলই আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে ম্যাচ জমিয়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল হয়নি।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও আনচেলত্তির কৌশল সাধারণ চোখে এটি একটি ফিফা প্রীতি ম্যাচ হলেও, ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য দল গুছিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবেই দেখছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। দ্বিতীয়ার্ধে তিনি রদ্রিগো ও এস্তেভাওকে তুলে নিয়ে লুকাস পাকেতা ও লুইজ হেনরিককে নামিয়ে বেঞ্চের শক্তি পরখ করে নেন। এই জয় প্রমাণ করে, আনচেলত্তির অধীনে ব্রাজিল শুধুমাত্র আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেলছে না, বরং কৌশলগতভাবেও অনেক বেশি সংগঠিত।
আগামী ১৮ নভেম্বর তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এই বছরের আন্তর্জাতিক সূচি শেষ করবে সেলেসাওরা। সেনেগালের বিপক্ষে এই দাপুটে জয় নিঃসন্দেহে তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে।