ঐতিহাসিক রায় ও সাজাপ্রাপ্তরা
গত সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ (International Crimes Tribunal-1) এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, অপর আসামি ও পরে রাজসাক্ষী (Approver) হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।
সারা দেশে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও মিষ্টি বিতরণ
রায় ঘোষণার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মাঝে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী ও সাধারণ মানুষ আনন্দ মিছিল বের করেন এবং মিষ্টি বিতরণ করেন। এ সময় মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানান।
কুমিল্লা (দেবীদ্বার): জুলাই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসেবে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে দেবীদ্বার উপজেলার শ্রমজীবী মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করে এনসিপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। উপজেলার স্বাধীনতা স্তম্ভের পাদদেশে বিকেল ৫টায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
নোয়াখালী: রাত ৮টায় জেলা জামে মসজিদ থেকে ছাত্র-জনতার একটি আনন্দ মিছিল বের হয়ে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়। পরে সাধারণ মানুষদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
বরিশাল: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায়কে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নগরীতে গণমিছিল করে। তারা দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি জানান।
ফরিদপুর: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জেলা জামায়াতে ইসলামী পৃথকভাবে মিষ্টি বিতরণ ও মোটরসাইকেল বহর নিয়ে আনন্দ মিছিল করে।
সিলেট: কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এনসিপি মিষ্টি বিতরণ শেষে আনন্দ মিছিল করে। একই সময়ে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাও পৃথকভাবে আনন্দ মিছিল বের করে।
দিনাজপুর: আহত জুলাই যোদ্ধারা শহরের গোর-এ শহীদ ময়দানের জুলাই স্মৃতি স্তম্ভের সামনে থেকে আনন্দ মিছিল বের করে এবং শহরের লিলিমোড়ে পথচারী ও সাধারণ মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করে।
ঢাকা (কেরানীগঞ্জ): রায়ের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কেরানীগঞ্জের আব্দুলাহপুরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: পৌর মার্কেট চত্বরের জুলাই মঞ্চের সামনে সাধারণ ছাত্র-জনতা আনন্দ মিছিলে অংশ নেন এবং মিষ্টি বিতরণ করেন। তারা দ্রুত ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের দাবি জানান।
ফেনী: রায় ঘোষণার পর পরই জুলাই যোদ্ধারা ট্রাংক রোড়ে একটি আনন্দ মিছিল করে এবং পথচারীদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করে। নাশকতা ঠেকাতে জেলা জামায়াত ও শিবিরের নেতারাও শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি): রাকসু (রাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
নারায়ণগঞ্জ: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র নেতাকর্মীরা চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উল্লাস করেন এবং প্রায় ১৫ কেজি মিষ্টি সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করেন।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট): চুয়েটের স্বাধীনতা চত্বর এলাকায় শিক্ষার্থীরা একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে এই রায়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।
নাটোর: জেলা বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলসহ সহযোগী সংগঠনগুলো শহরের কানাইখালী পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে পৃথকভাবে আনন্দ মিছিল করে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই ব্যাপক উল্লাস ও মিষ্টি বিতরণ প্রমাণ করে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত অপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে জনমনে এক প্রবল প্রত্যাশা ও স্বস্তি তৈরি হয়েছে।