ট্রাইব্যুনালের রায়, বাবার সন্তুষ্টি ও প্রতীক্ষা
শহীদ ওয়াসিম আকরামের পিতা শফিউল আলম এই রায়কে 'কাঙ্ক্ষিত' বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, 'আমি সকাল থেকে এই রায়ের অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে ট্রাইব্যুনাল কাঙ্ক্ষিত রায় দিয়েছে। সকল নাগরিকের মতো আমিও এতে আনন্দিত ও সন্তুষ্ট।'
তবে কেবল রায়ের ঘোষণাতেই সন্তুষ্ট না হয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান। শফিউল আলম বলেন, 'আমি ওই দিনই খুশি হবো যেদিন এ রায় কার্যকর হবে। শহীদ ওয়াসিমের আত্মা শান্তি পেতে হলে এ বিচারের রায় কার্যকর নিশ্চিত করতে হবে। রায় দিয়ে আমরা কি করবো, রায় যদি রায়ের জায়গায় আদালতে পড়ে থাকে তাহলে হবে না।'
বৈষম্য দূর ও খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই
ছেলের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'আমার ছেলে রাস্তায় নেমেছিল বৈষম্য দূর করতে। সুতরাং এ রায় কার্যকর করে সেই বৈষম্য দূর করতে হবে।' এই মর্মে তিনি চিহ্নিত সকল খুনি, হামলাকারী এবং যারা এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে, তাদের সকলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। তাঁর দৃঢ় প্রত্যয়, 'হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় যেদিন কার্যকর হবে, সেদিন আমি আনন্দিত হবো।'
শহীদ ওয়াসিম আকরাম: ঘটনার নেপথ্য ও পরিচয়
উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রাম নগরীর মুরাদপুর এলাকায় সংঘটিত এক মর্মান্তিক হামলায় নিহত হন ওয়াসিম আকরাম। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগীদের হামলায় তিনি মারা যান। শহীদ ওয়াসিম আকরাম চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা এলাকার শফিউল আলমের ছেলে।
এই রায়ের দ্রুত ও নির্ভুল কার্যকরের মাধ্যমে দেশজুড়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।