আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইসরায়েলের চরমপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের এক বিতর্কিত হুমকিতে। তিনি প্রকাশ্যে, জাতিসংঘ যদি ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে অগ্রসর হয়, তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে অবশ্যই ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (PA) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হত্যা এবং প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিতে হবে।
নেতানিয়াহুকে সরাসরি নির্দেশ সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) মার্কিন-খসড়া প্রস্তাবের ওপর ভোটের কয়েক ঘণ্টা আগে নেসেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেন-গভির এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর উদ্দেশে বলেন, "যদি তারা এই ‘ফেক’ রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়, যদি জাতিসংঘ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়, তাহলে আপনাকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হত্যার নির্দেশ দিতে হবে। যারা প্রতিটি দিক থেকেই সন্ত্রাসী, এবং আপনাকে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিতে হবে।"
বেন-গভিরের এই বক্তব্য ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চরমপন্থী অবস্থানকেই প্রকাশ্যে নিয়ে এল, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রস্তাব অনুমোদন ও ফিলিস্তিনের প্রতিক্রিয়া বেন-গভিরের হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, ওয়াশিংটনের আনা প্রস্তাবটি ১৩ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদিত হয়। এই প্রস্তাবে ট্রাম্প প্রশাসনের গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে, যার মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন প্রতিষ্ঠা এবং উপত্যকায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলি মন্ত্রীর এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, "এই ধরনের পদ্ধতিগত উস্কানি এমন একটি রাজনৈতিক মানসিকতার প্রকাশ যা শান্তিকে প্রত্যাখ্যান করে এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে তোলে।"
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোকে এই উস্কানি বন্ধ করার জন্য জরুরি ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। জবাবদিহিতা ব্যবস্থা সক্রিয় করা এবং শাসনের হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসী ভাষা ও উস্কানি ব্যবহার প্রত্যাখ্যান করার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।"
উল্লেখ্য, এর আগেও ইসরায়েলি রাজনীতিবিদরা একাধিকবার ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের যেকোনো সম্ভাবনাকে সর্বসম্মতভাবে প্রত্যাখ্যান করার পক্ষে মত দিয়েছেন। বেন-গভিরের এই হুমকি সেই কঠোর নীতিরই এক চরম বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।