বছরের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে এসে জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারল না কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল। আগের ম্যাচে সেনেগালকে দাপটের সঙ্গে হারালেও, মঙ্গলবার রাতে ফ্রান্সের লিলে অনুষ্ঠিত ফ্রেন্ডলি ম্যাচে তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ তিউনিসিয়ার বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে হতাশাজনকভাবে বছর শেষ করল সেলেসাওরা। তারকা মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতার পেনাল্টি মিস না হলে ম্যাচের ফলাফল ব্রাজিলের পক্ষেই আসতে পারত।
খেলার ধারার বিপরীতে গোল হজম ফ্রান্সের লিলে ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল এবং আক্রমণে একাধিপত্য ছিল ব্রাজিলের। একের পর এক আক্রমণে তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখে তারা। কিন্তু খেলার ধারার বিপরীতেই ঘটে অঘটন। ম্যাচের ২৩তম মিনিটে একটি দ্রুতগতির counter-attack থেকে ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দেয় তিউনিসিয়া। সেলেসাওদের রক্ষণভাগের সামান্য অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে আফ্রিকার দলটির হয়ে গোল করে এগিয়ে দেন হাজেম মাসতৌরি। অপ্রত্যাশিত এই গোলে সাময়িকভাবে হতচকিত হয়ে পড়ে ব্রাজিল শিবির।
প্রথমার্ধেই দুরন্ত প্রত্যাবর্তন এস্তেভাওয়ের গোল হজম করার পরেই যেন সম্বিৎ ফেরে ব্রাজিলের। আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে প্রতিপক্ষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। যার ফল মেলে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে। তিউনিসিয়ার ডি-বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হন এক ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এবং রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে স্বপ্নের ফর্মে থাকা তরুণ উইঙ্গার এস্তেভাও spot kick থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি। তার নিখুঁত শটে সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় ব্রাজিল।
নায়ক হওয়ার সুযোগ হারালেন পাকেতা দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের সেই ধারা বজায় রাখে আনচেলত্তির শিষ্যরা। তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগকে চেপে ধরে একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মিলছিল না। তবে ম্যাচ শেষের ঠিক ১২ মিনিট আগে, ৭৮তম মিনিটে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ আসে ব্রাজিলের সামনে। আবারও পেনাল্টি পায় তারা। কিন্তু এবার স্পট কিক নিতে এসে হতাশ করেন দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা। তার দুর্বল শটটি তিউনিসিয়ার গোলরক্ষক রুখে দিলে জয়ের স্বপ্ন সেখানেই শেষ হয়ে যায় ব্রাজিলের। বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এই ড্রয়ের ফলে জয়ের উল্লাস ছাড়াই বছর শেষ করতে হলো ব্রাজিলকে, যা নিঃসন্দেহে সমর্থকদের জন্য একটি বড় হতাশার কারণ।