কয়েক মাস ধরে চলা বিতর্কের অবশেষে কি যবনিকা পতন ঘটল? টেলিপাড়ার গুঞ্জন সত্যি করে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ধারাবাহিক থেকে সরে দাঁড়ালেন অভিনেতা জিতু কমল। যদিও এই বিষয়ে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ বা প্রযোজনা সংস্থা আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা করেনি, তবে সোমবার গভীর রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে জিতু নিজেই সেই জল্পনাকে সত্যি বলে কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন। আর সিরিয়াল ছাড়ার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ‘আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস’ উপলক্ষে তাঁর একটি নতুন পোস্ট বিতর্কের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়? অভিনেত্রী দিতিপ্রিয়া রায়ের সঙ্গে জিতু কমলের এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় একটি কথোপকথনের স্ক্রিনশট ঘিরে। দিতিপ্রিয়ার দাবি ছিল, সহ-অভিনেতা জিতু তাঁকে এমন কিছু বার্তা পাঠিয়েছেন যা অত্যন্ত। এর পাল্টা হিসাবে জিতু কমলও নিজের থেকে কিছু স্ক্রিনশট শেয়ার করেন, যা প্রকাশ্যে আসতেই দুই শিল্পীর মধ্যেকার সম্পর্ক নিয়ে তীব্র বিতর্ক দানা বাঁধে। এই অভ্যন্তরীণ সংঘাতই যে জনপ্রিয় ধারাবাহিকটকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেবে, তা অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন।
সিরিয়াল ছাড়ার নেপথ্যে সূত্রের খবর, সোমবার জিতু এবং দিতিপ্রিয়া প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধার ও ক্রিয়েটিভ টিমের সঙ্গে একটি বৈঠকে বসেন। অভিযোগ, সেই বৈঠকে জিতু বিশেষ কোনো কথা বলতে রাজি হননি, যা প্রযোজনা সংস্থার কর্তাদের ক্ষুব্ধ করে। অন্যদিকে, দিতিপ্রিয়া শেষ পর্যন্ত উপস্থিত থেকে নিজের বক্তব্য জানান। এরপরই প্রযোজনা সংস্থার তরফে জিতুর পরিবর্ত হিসেবে নতুন নায়কের খোঁজ শুরু হয়ে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে জিতুর জায়গায় কাকে দেখা যাবে, সেই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।
এক পোস্টে নতুন জল্পনা ধারাবাহিক ছাড়ার এই ডামাডোলের মধ্যেই মঙ্গলবার ‘আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস’ উপলক্ষে জিতু কমলের একটি ফেসবুক পোস্ট নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছে। তিনি একটি ছবি পোস্ট করেন যেখানে লেখা, “কান্না পেলে সেও কাঁদে, ব্যথায় তারও কষ্ট হয়। সমাজ যতই বুঝুক না ভুল, পুরুষ মানেই নষ্ট নয়।” এই লেখার ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘Happy International Human’s Day’। জিতুর এই ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দেখে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের জবাব এভাবেই পরোক্ষে দিতে চেয়েছেন। ‘পুরুষ মানেই নষ্ট নয়’—এই কথার আড়ালে জিতু হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
অনিশ্চয়তার মুখে ধারাবাহিক দুই জনপ্রিয় শিল্পীর এই ব্যক্তিগত সংঘাত একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকের ভবিষ্যৎকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। জিতু কমলের মতো পরিচিত মুখের প্রস্থানের পর নতুন নায়ককে দর্শকরা কতটা গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সিরিয়ালের টিআরপি ধরে রাখা প্রযোজকদের কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে, এই বিতর্কের জল আগামী দিনে আরও কতদূর গড়ায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র টলিপাড়া।