ডেঙ্গুর প্রকোপ কমার কোনো লক্ষণই নেই, বরং সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও ভয়াল রূপ ধারণ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে প্রাণঘাতী এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের উদ্বেগজনক পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। একই সময়ে নতুন করে ৭৮৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
রাজধানীর বাইরেও মৃত্যুর হানা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ছয়জনের মধ্যে তিনজনই রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় দুইজন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, ডেঙ্গুর ভয়াবহতা এখন আর শুধু রাজধানীতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং দেশের অন্যান্য বিভাগেও মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় সর্বোচ্চ ১৬৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ৮৬ জন, ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলায় ১৩০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০৮ জন এবং বরিশাল বিভাগে ৮৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। খুলনা, ময়মনসিংহ এবং রংপুর বিভাগেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
চলতি বছরে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৪৯ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৮৭ হাজার ৭১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৪৯ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বহু মানুষ, তবে হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন হাজারো রোগী। প্রতিদিনের এই পরিসংখ্যান জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এবং দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে।
এর আগে ২০২৩ সাল ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গু মৌসুম। ওই বছর ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের রেকর্ড মৃত্যু হয়েছিল। সেই ভয়াবহতার স্মৃতি যখন এখনও তাজা, তখন চলতি বছরের পরিস্থিতি নতুন করে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।