শীতকাল আসন্ন। এই আবহাওয়ায় বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদে শুরু হয়ে গেছে খেজুরের রস আহরণের তোড়জোড়। এরই ধারাবাহিকতায় যশোরের বসুন্দিয়া এলাকায় গাছিরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খেজুর গাছ প্রস্তুতকরণের কাজে। গাছিদের আশা, অগ্রহায়ণ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই গাছ থেকে সুমিষ্ট রস সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
বসুন্দিয়া ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাসের তথ্য অনুযায়ী, এই বছর প্রায় ৫৫৫০টি খেজুর গাছ থেকে রস আহরণ করা সম্ভব হবে। সেই রস জ্বালিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার খেজুরের গুড় উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে কৃষি বিভাগ লক্ষ্যমাত্রা (Target) নির্ধারণ করেছে। এটি স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গাছ প্রস্তুতকরণে ব্যস্ত গ্রামীণ জনপদ
খেজুরের রস আহরণের মধ্য দিয়েই গ্রামীণ জনপদে শুরু হয় শীতের আমেজ। বসুন্দিয়ার গ্রামে গ্রামে এখন খেজুর গাছ প্রস্তুত করার কাজে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। রাস্তার ধারে বা জমির আইলে থাকা খেজুর গাছের মাথার অংশ পরিষ্কার করতে ভোরবেলা থেকেই ছুটে চলেছেন গাছিরা। ধারালো দা দিয়ে অত্যন্ত শৈল্পিক ও দক্ষ হাতে তারা গাছের মাথা ছেঁটে রস সংগ্রহের পথ তৈরি করছেন।
রস সংগ্রহের প্রস্তুতি সারতে সাগ্রহে তৎপর ও ব্যস্ততম সময় পার করছেন বসুন্দিয়া, জগন্নাথপুর, কেফায়েতনগর, সদুল্লাপুর, ঘুনি, পদ্মবিলা, গোপেরডাঙ্গা, জঙ্গলবাধাল, গাইদগাছি, জয়ন্তা ও বনগ্রামের গাছিরা।
পদ্মবিলার খেজুর বাগানের গাছি গাজি আজিজুর রহমান জানান, গাছের মাথা পরিষ্কারের পর গাছগুলোকে দুই সপ্তাহের জন্য বিশ্রাম দেওয়া হয়। এরপর বাঁশের নলী স্থাপন করা হবে এবং তার পরই শুরু হবে মাটির ভাঁড়ে সুস্বাদু খেজুর রস আহরণের কাজ। তাঁদের প্রত্যাশা, আগামী ৪ থেকে ৫ মাস খেজুরের রস ও গুড় বিক্রির অর্থেই তাঁদের সংসার চলবে।
আব্দুল লতিফ নামে আরেক গাছি প্রায় ২০০ খেজুর গাছ প্রস্তুত করছেন। তিনি বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে খেজুরের রস ও গুড়ের মার্কেট ভ্যালু ভালো থাকায় আগামী চার মাস রস ও গুড় বিক্রি করে বাড়তি আয় হবে, যা আমাদের সংসারে বাড়তি সচ্ছলতা আনবে।”
ভেজাল রোধে কৃষি বিভাগের উদ্যোগ
বসুন্দিয়ার খাঁটি খেজুর গুড়ের দেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, যা এটিকে স্থানীয় অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কমার্শিয়াল প্রোডাক্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। ভেজালমুক্ত গুড়ের সুনাম বজায় রাখতে কৃষি বিভাগ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
ইউনিয়ন কৃষি কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, গুড়ে ভেজাল রোধে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন সভা ও সেমিনার (Seminar) ও সচেতনতামূলক প্রোগ্রামের মাধ্যমে কৃষকদের সচেতন করছে। এমনকি গুড়ে ভেজাল না দেওয়ার জন্য শপথও করানো হয়েছে। তিনি আশা করেন, যশোরের উৎপাদিত খেজুর গুড় নিয়ে এবার কোনো অভিযোগ থাকবে না। গাছিদেরকে আরও দক্ষ ও উৎসাহী করতে সরকারিভাবে সভা-সেমিনার ও প্রযুক্তি নির্ভর প্রশিক্ষণ (Technology Dependent Training) প্রদান করা হবে।