নায়কের কাঁধে ভর করে স্বপ্নপূরণ
রূপকথার মতোই এক গল্প লিখলেন অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। যে ক্লাবের আঙিনায় তার ফুটবলের হাতেখড়ি, ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে রাজত্ব করার পর সেই ঘরে ফিরেই মেটালেন এক বিশাল আক্ষেপ। তার জাদুকরী পারফরম্যান্সে ভর করেই দীর্ঘ ৩৮ বছর পর আর্জেন্টিনার প্রিমেরা ডিভিশন লিগ শিরোপা জিতল রোজারিও সেন্ট্রাল। এর আগে ১৯৮৭ সালে শেষবার লিগ জয়ের স্বাদ পেয়েছিল ক্লাবটি।
গত মে মাসে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা থেকে রোজারিওতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই দলের প্রাণভোমরা হয়ে ওঠেন এই বিশ্বকাপজয়ী তারকা। শিরোপা জয়ের এই দীর্ঘ পথে তিনি করেছেন ৭টি গোল এবং করিয়েছেন আরও ৩টি, যা দলের অন্য কোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি। কার্যত একা হাতেই তিনি দলকে টেনে নিয়ে গেছেন চ্যাম্পিয়নশিপের দিকে।
বৃত্ত পূরণ, মেটালেন পুরনো আক্ষেপ
রোজারিও সেন্ট্রালের জার্সিতেই ডি মারিয়ার ইয়ুথ (Youth) এবং সিনিয়র (Senior) ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল। এখান থেকেই ২০০৭ সালে তিনি ইউরোপে পাড়ি জমান। মাঝে খেলেছেন রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, পিএসজি এবং জুভেন্টাসের মতো বিশ্বসেরা ক্লাবগুলোতে। বেনফিকা, রিয়াল মাদ্রিদ ও পিএসজির হয়ে জিতেছেন অসংখ্য শিরোপা, কিন্তু ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও জুভেন্টাসের হয়ে তার ট্রফি কেবিনেট ছিল শূন্য। একইভাবে, শৈশবের ক্লাব রোজারিওর হয়েও কোনো শিরোপা না জেতার একটি চাপা আক্ষেপ ছিল তার। অবশেষে সেই বৃত্ত পূরণ করলেন তিনি।
প্লে-অফ ছাড়াই যেভাবে এল শিরোপা
এবারের মৌসুমে রোজারিও সেন্ট্রালের শিরোপা জয়ের প্রক্রিয়াটি ছিল কিছুটা ভিন্ন। আর্জেন্টিনার প্রিমেরা ডিভিশনে সাধারণত দুটি ধাপের লিগ পর্বের পর প্লে-অফের (Playoff) মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হয়। তবে এ বছর প্লে-অফ অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার লিগ কর্তৃপক্ষ সর্বসম্মতভাবে দুই ধাপের লিগ পর্বে সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনকারী দল হিসেবে রোজারিও সেন্ট্রালকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঘোষণা করে।
ডি মারিয়ার দল ‘বি’ গ্রুপের ‘উদ্বোধনী’ পর্বে ৩৫ পয়েন্ট এবং ‘সমাপণী’ পর্বে ৩১ পয়েন্ট অর্জন করে। দুই পর্ব মিলিয়ে তাদের মোট পয়েন্ট দাঁড়ায় ৬৬, যা লিগের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে বেশি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বোকা জুনিয়র্সের মোট পয়েন্ট ছিল ৬২। এই অনবদ্য ধারাবাহিকতাই তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শিরোপা এনে দিল।