• আন্তর্জাতিক
  • ‘ট্রাম্প কি ফ্যাসিস্ট?’: নবনির্বাচিত মুসলিম মেয়রকে থামিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের তাৎক্ষণিক জবাব

‘ট্রাম্প কি ফ্যাসিস্ট?’: নবনির্বাচিত মুসলিম মেয়রকে থামিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের তাৎক্ষণিক জবাব

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
‘ট্রাম্প কি ফ্যাসিস্ট?’: নবনির্বাচিত মুসলিম মেয়রকে থামিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের তাৎক্ষণিক জবাব

দীর্ঘদিনের বিরোধিতা শেষে ওভাল অফিসে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠক; ট্রাম্পের প্রতি মামদানির ‘ফ্যাসিস্ট’ মন্তব্য নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নে মুহূর্তে পাল্টে গেল দুই নেতার সমীকরণ।

মার্কিন রাজনীতিতে (US Politics) সাম্প্রতিক এক বিরল দৃশ্যের জন্ম দিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি (Zohran Mamdani)। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক তিক্ততা ও বিরোধিতা কাটিয়ে ওভাল অফিসে (Oval Office) দুই নেতার ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো স্থানীয় সময় শুক্রবার (২১ নভেম্বর)। এই উচ্চপর্যায়ের ‘মিটিং’ (Meeting) ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ ছিল তুঙ্গে।

‘ফ্যাসিস্ট’ মন্তব্যে ট্রাম্পের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে এবং পরে বেশ কয়েকবার ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে ‘ফ্যাসিস্ট’ (Fascist) বলে আখ্যা দিয়েছিলেন জোহরান মামদানি। শুক্রবার ওভাল অফিসে বৈঠকের পর এক সাংবাদিক দুই নেতার কাছে সেই প্রসঙ্গে সরাসরি প্রশ্ন করেন: মামদানি কি এখনও বিশ্বাস করেন ট্রাম্প আসলে ফ্যাসিবাদী?

সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে তাৎক্ষণিক অস্বস্তিতে পড়েন ৩৪ বছর বয়সী নেতা জোহরান মামদানি। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি এই বিষয়ে আগেই কথা বলেছি।”

ঠিক তখনই ট্রাম্প হেসে পরিস্থিতি সামলে নেন এবং মামদানিকে থামিয়ে দিয়ে নিজেই এর জবাব দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “ঠিক আছে। আপনি এমনটা বলতেই পারেন। এতে আমার আপত্তি নেই। ব্যাখ্যা করার থেকে বলে দেওয়াটা সহজ। আমি কিছুই মনে করছি না।” এরপর পাল্টা হেসে নরম স্বরে মামদানি শুধু বলেন, “ঠিক আছে, হ্যাঁ।” ট্রাম্পের এই কৌতুকপূর্ণ এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

উত্তেজনাপূর্ণ নির্বাচন ও সম্পর্কের মোড়বদল

গত ৪ নভেম্বরের নির্বাচনে মামদানির ঘোরবিরোধী ছিলেন ডনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচন চলাকালীন একে অন্যকে কটাক্ষ করতেও তাঁরা ছাড়েননি। তবে শুক্রবারের বৈঠকটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন মেজাজের। এদিন ট্রাম্প কেবল মামদানির প্রশংসা করেই ক্ষান্ত হননি, নবনির্বাচিত মেয়রকে আন্তরিক অভিনন্দনও জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “নিউইয়র্কের মেয়র হওয়া অনেক বড় ব্যাপার। আমি আশা করি, মামদানি দুর্দান্ত মেয়র হবেন।”

অন্যদিকে, মেয়র মামদানি বলেন, “তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।” এর মাধ্যমে দুই নেতার মধ্যেকার সম্পর্কের এক নতুন ‘ডাইমেনশন’ (Dimension) তৈরি হলো বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ফলপ্রসূ আলোচনা এবং ঐক্যের সুর

ওভাল অফিসের এই বৈঠকে নিউইয়র্কের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক বিষয় নিয়ে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ (Fruitful Discussion) হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প ও মামদানি। তাঁদের আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল— নিউইয়র্কের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ক্রমবর্ধমান অপরাধ প্রবণতা, আবাসন সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা (Economic Security)।

ট্রাম্প বৈঠক শেষে জানান, “আমাদের একটা দারুণ বৈঠক হলো। খুবই ভালো, খুবই ফলপ্রসূ। আমাদের একটা মিল আছে। আমরা দুজনই চাই আমাদের এই প্রিয় শহরটা ভালোভাবে এগিয়ে যাক।” তিনি মামদানির নির্বাচনকে ‘অসাধারণ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “তিনি সত্যিই অসাধারণ একটি নির্বাচন লড়েছেন। প্রাথমিক থেকেই খুবই দক্ষ ও কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে লড়েছেন। তিনি সবাইকে খুব সহজে হারিয়েছেন।”

মামদানিও ট্রাম্পের কথায় সুর মিলিয়ে বলেন, “প্রেসিডেন্টের সাথে আমার বৈঠকটা খুবই ফলপ্রসূ ছিল। আমরা দুজনই নিউইয়র্ক সিটিকে ভালোবাসি। এই শহরেই আমাদের মিল। আর এই শহরের মানুষকে কীভাবে সাশ্রয়ী জীবন ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সেটাই ছিল আলোচনার মূল বিষয়বস্তু।”

Tags: us politics donald trump oval office new york mayor zohran mamdani fascist comment presidential meeting political rivalry crime and economy muslim leader