• খেলা
  • রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ম্যানসিটির টানা জয়ের রথ থামাল নিউক্যাসল, ইতিহাস গড়লেন এডি হাও

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ম্যানসিটির টানা জয়ের রথ থামাল নিউক্যাসল, ইতিহাস গড়লেন এডি হাও

খেলা ১ মিনিট পড়া
রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ম্যানসিটির টানা জয়ের রথ থামাল নিউক্যাসল, ইতিহাস গড়লেন এডি হাও

বল দখলে আধিপত্যেও সুযোগ হাতছাড়ার খেসারত, হার্ভে বার্নসের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় ‘ম্যাগপাইদের’; ভাঙল কোচ এডি হাওয়ের পেপ গার্দিওলাকে হারানোর দীর্ঘ খরা।

কোচের দীর্ঘ খরা ঘুচল, হার মানল সিটি

অবশেষে ম্যানচেস্টার সিটির (Manchester City) বিপক্ষে জয়ের দেখা পেলেন নিউক্যাসল ইউনাইটেডের (Newcastle United) কোচ এডি হাও (Eddie Howe)। এর আগে কোনো প্রতিযোগিতায়ই পেপ গার্দিওলার (Pep Guardiola) দলকে হারাতে পারেননি তিনি। এই জয় কেবল নিউক্যাসলের পয়েন্ট টেবিলে উন্নতিই ঘটাল না, বরং এডি হাওয়ের ব্যক্তিগত রেকর্ডেও এক দারুণ সাফল্য যোগ করল। এই পরাজয়ের ফলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সিটিজেনদের টানা চার জয়ের রথ থেমে গেল। সেন্ট জেমস পার্কে সুযোগ হাতছাড়ার (Opportunity Miss) মহড়া দিয়ে শেষ পর্যন্ত হারের স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটিকে।

৭ মিনিটের ঝড় ও রোমাঞ্চকর জয়

শনিবার (২২ নভেম্বর) নিউক্যাসলের হোম গ্রাউন্ড সেন্ট জেমস পার্কে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দেখা গেল ফুটবলের আসল রোমাঞ্চ। খেলার দ্বিতীয় ভাগে মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে দুই দলের জালে বল জড়াল মোট তিনবার। এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ২-১ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নিল নিউক্যাসল ইউনাইটেড।

ম্যাগপাইদের এই জয়ের নায়ক ছিলেন ইংলিশ তারকা হার্ভে বার্নস (Harvey Barnes)। তার পা থেকে আসে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ দুটি গোল। বার্নসের জোড়া গোলের মাঝেই ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে একমাত্র গোলটি করেন রুবেন দিয়াজ (Ruben Dias)।

পরিসংখ্যান ও খেলার ধারা

ম্যাচের পরিসংখ্যানগত দিক থেকে বল দখলে সুস্পষ্ট আধিপত্য (Dominance in Possession) দেখায় সিটি। তারা প্রায় ৬৮ শতাংশ বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল এবং গোলমুখে শট নেয় মোট ১৭টি, যার মধ্যে ৪টি ছিল লক্ষ্যে। তবে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের খেলোয়াড়দের আক্রমণ ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর। তাদের ৯টি শটের মধ্যে ৫টিই ছিল গোলপোস্টের দিকে, যা তাদের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা (Efficiency) প্রমাণ করে।

প্রথমার্ধে দুই দলই কিছু সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করে। দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। অবশেষে ৬৩ মিনিটে ডেডলক (Deadlock) ভাঙেন হার্ভে বার্নস। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার জোরালো শট নিউক্যাসলকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেয়।

তবে এই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি নিউক্যাসল। মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যেই গোল শোধ করে সিটিজেনরা। ৬৮ মিনিটে রুবেন দিয়াসের শট বক্সের মধ্যে অন্য একজন খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে নিউক্যাসলের জালে জড়ায়।

কিন্তু ৭০ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় নিউক্যাসল। ব্রুনো গিমারেসের (Bruno Guimaraes) হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে সামনে পাওয়া বল জালে জড়িয়ে দেন বার্নস। প্রথমে অফসাইডের (Offside) সন্দেহ থাকলেও, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) দীর্ঘক্ষণ পরীক্ষা করে গোলের বাঁশি বাজালে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নিউক্যাসল। এই ২-১ স্কোরলাইন নিয়েই শেষ হয় ম্যাচ।

পয়েন্ট টেবিলের অবস্থান ও ঐতিহাসিক জয়

এই পরাজয় সত্ত্বেও ম্যানচেস্টার সিটি ১২ ম্যাচে ৭ জয় ও ১ ড্রয়ে ২২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে (Third Position) রয়েছে। তাদের চেয়ে মাত্র ১ পয়েন্ট বেশি নিয়ে দুইয়ে আছে চেলসি। অন্যদিকে, ১১ ম্যাচে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে আর্সেনাল (Arsenal)।

ঐতিহাসিক এই জয়ে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের গুরুত্ব অপরিসীম। বিগত ২০ বছরে সিটির বিপক্ষে এটি তাদের মাত্র দ্বিতীয় জয়। ১২ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ম্যাগপাইরা পয়েন্ট টেবিলের ১৪ নম্বর স্থানে (14th Position) উঠে এসেছে।

Tags: manchester city pep guardiola premier league football news newcastle united harvey barnes eddie howe match review