কাতার বিশ্বকাপের পরপরই বিশ্ব ফুটবলে শুরু হয় এক নতুন জোয়ার। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (Cristiano Ronaldo)-র হাত ধরে শুরু হওয়া এই ট্রান্সফার ওয়েভ-এ (Transfer Wave) একে একে সৌদি প্রো লিগের (Pro League) ক্লাবগুলোতে পাড়ি জমান নেইমার জুনিয়র, করিম বেনজেমা, জোয়াও ক্যানসেলো, রিয়াদ মাহরেজ ও এমেরিক লাপোর্তের মতো বিশ্বের বাঘা বাঘা ফুটবল সুপারস্টার (Superstar)-রা। সেই তালিকায় লিভারপুল ছেড়ে নাম লেখান ফ্যাবিনহো, রবার্তো ফিরমিনো ও সেনেগালের তারকা ফুটবলার সাদিও মানে।
যদিও ফিরমিনো সৌদি আরব ছেড়ে বর্তমানে কাতারের এক ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন, তবুও ফ্যাবিনহো ও সাদিও মানে এখনও সৌদি লিগেই খেলছেন। ফ্যাবিনহো খেলছেন আল-ইত্তিহাদে, আর সাদিও মানে খেলেন রোনালদোর দল আল-নাসরে (Al Nassr)। এই দেশটিতে পাড়ি জমানোর পর দুই বছরের বেশি সময় অতিক্রম করেছেন মানে, যেখানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি (Bangladeshi Expat) বসবাস করেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে অপ্রত্যাশিত সাক্ষাৎ
সৌদি আরবে সাদিও মানের সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেখা হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়, দেখা হয়েছেও। সেনেগালিজ এই ফুটবলার তেমনই এক হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত নিয়ে সম্প্রতি কিংবদন্তি ইংরেজ ফুটবলার রিও ফার্ডিনান্দের জনপ্রিয় পডকাস্টে (Podcast) বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বাংলাদেশিদের ব্যবহারে তিনি যে গভীরভাবে মুগ্ধ, সে কথা জানিয়েছেন অকপটে।
রমজানের আতিথেয়তা: “তারা আমাকে চিনতো না”
রিও ফার্ডিনান্দের সঙ্গে আলাপকালে সাদিও মানে সৌদি আরবের প্রবাসী বাঙালিদের আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “ওয়াও, মানুষগুলো (বাংলাদেশের) কেমন!… অসাধারণ।” একটি বিশেষ দিনের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, “একদিন আমি যাচ্ছিলাম, রমজানের সময়। আমাকে একজন ডাক দিয়ে বললেন, ‘এই, এখানে খেতে আসো’।”
মানে জানান, প্রথমে তিনি ইতস্তত বোধ করেন। “আমি বললাম, ‘বন্ধুরা, তোমরা তো আমাকে চেনো না, বসব কেন’।” কিন্তু তাদের জবাব তাকে হতবাক করে দেয়। “তারা বলল, ‘না না না, সমস্যা নেই। এখানে এমনই, আসো’।”
ফার্ডিনান্ড তখন বিস্ময় নিয়ে প্রশ্ন করেন— এই আতিথেয়তা কি সাদিও মানে বলেই, নাকি শুধু একজন ব্যক্তি হিসেবে? উত্তরে মানে নিশ্চিত করে জানান, ওই প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাকে চিনতেই পারেননি। “না, তারা আমাকে চিনতো না। চিনতো না।”
সংস্কৃতি ও কমিউনিটি বন্ডিং
এই ঘটনা শুনে রিও ফার্ডিনান্ড মন্তব্য করেন যে এতে সেখানকার সংস্কৃতি বোঝা যায়। এই সংস্কৃতি হলো, একে অপরকে সহায়তা করা এবং একত্রে থাকা। সাদিও মানেও এই প্রসঙ্গে সহমত পোষণ করে বলেন, “একত্রে থাকা এবং একে অন্যকে সাহায্য করা। নিজেদের মধ্যে (জিনিস) ভাগাভাগি করা।”
এই অপ্রত্যাশিত এবং নিঃস্বার্থ আতিথেয়তা সাদিও মানের হৃদয় গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “এটা আমার জন্য খুবই খুবই হৃদয়স্পর্শী।” এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাঙালিরা তাদের চিরায়ত আতিথেয়তা ও কমিউনিটি স্পিরিট (Community Spirit) বিদেশের মাটিতেও অটুট রেখেছেন।