অস্ত্র হাতে 'রিজার্ভ ব্যাংকের' জালিয়াত
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (Reserve Bank of India) কর্মকর্তা সেজে এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে শহরের কেন্দ্রে দিনের আলোয় এই দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অস্ত্রধারী অন্তত ছয়জন ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ রুপি বহনকারী একটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে সাত কোটি রুপি (প্রায় আট লাখ ডলার) লুট করে পালিয়ে যায়। স্থানীয় পুলিশের বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে বিবিসি।
বেঙ্গালুরু পুলিশ কমিশনার সীমান্ত কুমার সিং জানিয়েছেন, সেদিন শহরের ব্যস্ততম সড়কে একটি এসইউভি (SUV) গাড়িতে করে এসে ছয়জন ব্যক্তি অর্থ বহনকারী গাড়িটি থামায়। গাড়িটি ব্যাংকের এক শাখা থেকে অন্য শাখায় নগদ অর্থ নিয়ে যাচ্ছিল। সে সময় গাড়িটিতে চালকের পাশাপাশি একজন জিম্মাদার (Custody Officer) এবং দুজন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী (Security Personnel) ছিলেন।
আর্ট অফ ডিসেপশন: জিম্মি ও লুণ্ঠন
পুলিশ কমিশনারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতেরা গাড়িতে থাকা চারজনকে জানায় যে, তারা ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা। তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিবহনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (Documentation) আছে কি না, তা যাচাই করতে চায়। এরপর ডাকাত দলের সদস্যরা অর্থের জিম্মাদার ও নিরাপত্তারক্ষীদের তাদের অস্ত্রগুলো গাড়িতে রেখে ডাকাতদের গাড়িতে উঠে বসতে নির্দেশ দেয়। এরপর মূল গাড়ির চালককে সেটি চালিয়ে নিয়ে যেতে বলা হয়। ডাকাতদের এসইউভি গাড়িটি অর্থ পরিবহনকারী গাড়িটিকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত অনুসরণ করে।
এরপর ডাকাতেরা একটি সুবিধাজনক জায়গায় চালককে অর্থ বহনকারী গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। একইসঙ্গে অর্থের জিম্মাদার ও নিরাপত্তারক্ষীদেরও এসইউভি থেকে নামানো হয়। এই পর্যায়ে অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে অর্থ বহনকারী গাড়ি থেকে সাত কোটি রুপি নিজেদের গাড়িতে তুলে নিয়ে চোখের পলকে পালিয়ে যায় ডাকাত দল। এই ঘটনা বেঙ্গালুরুর ল অ্যান্ড অর্ডার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
পুলিশি তদন্ত ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ডাকাতির ঘটনাটি এমন এক স্থানে ঘটেছে যেখানে তেমন সিসিটিভি (CCTV) কাভারেজ ছিল না। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, ডাকাতেরা এই অভিযানে একাধিক গাড়ি ব্যবহার করেছিল কি না। ডাকাতির শিকার হওয়া অর্থ বহনকারী গাড়িটির মালিক প্রতিষ্ঠান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে এবং প্রতিষ্ঠানটির কোনো কর্মী ডাকাতির সঙ্গে জড়িত কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ডাকাতদের ব্যবহৃত এসইউভি গাড়িটিতে ভুয়া নম্বরপ্লেট ও 'গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া' লেখা স্টিকার লাগানো ছিল। এই ধরনের অর্গানাইজড ক্রাইম-এর নেপথ্যে বড় চক্রের হাত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পুলিশ ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত এসইউভি গাড়িটি জব্দ করেছে। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর বলেছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা কোন গাড়িতে করে পালিয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি দ্রুত এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের আশ্বাস দিয়েছেন এবং তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত মে মাসে নকল চাবি ব্যবহার করে কর্ণাটকের বিজয়পুরা জেলার একটি ব্যাংক থেকে ৫৯ কেজি সোনা ও ৫৩ কোটি রুপির বেশি অর্থ চুরি হয়েছিল। ওই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ৩৯ কেজি সোনা ও কিছু নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে এবং ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে, যার মধ্যে ২ জন ব্যাংকের সাবেক কর্মী।