যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এবং কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত এলাকা হিসেবে পরিচিত হোয়াইট হাউসের অদূরেই বড় ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে ওয়াশিংটন ডিসিতে দায়িত্বরত ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ দুই সদস্যের অবস্থাই গুরুতর বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঘটনাটি খোদ প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও কার্যালয়ের এত কাছে ঘটায় মার্কিন প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (FBI)।
পরিকল্পিত হামলা ও সন্দেহভাজন আটক
ঘটনাটি ঘটে হোয়াইট হাউস থেকে মাত্র এক ব্লক দূরে, যা রাজধানীর অন্যতম ‘High Security Zone’ হিসেবে বিবেচিত। ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী একজনই ছিল। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা গুলিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তি আহত হয় এবং তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়েল বাউসার এই ঘটনাকে ‘Targeted Shooting’ বা পরিকল্পিত গুলিবর্ষণের ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা জেফ্রি ক্যারল নিশ্চিত করেছেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জনসাধারণের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি নেই।
জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যু: এফবিআইয়ের অবস্থান
ঘটনার গভীরতা অনুধাবন করে তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (FBI) পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, এই গুলিবর্ষণের ঘটনাটি সাধারণ কোনো অপরাধ নয়, বরং একে ‘National Security Matter’ বা জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “ঘটনার তদন্তে এফবিআইয়ের সঙ্গে একাধিক সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে। কেন এবং কার নির্দেশে হোয়াইট হাউসের এত কাছে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালানো হলো, তা খুঁজে বের করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া
হোয়াইট হাউসের সন্নিকটে এমন সহিংস ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এই হামলার জন্য দোষীকে চরম মূল্য দিতে হবে। আটক সন্দেহভাজন হামলাকারীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের রাজধানীতে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সরকার ‘Zero Tolerance’ নীতি অবলম্বন করবে।
বাইডেনের নিন্দা ও আহ্বান
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় তিনি বলেন, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী জিল বাইডেন এই খবরে ‘মর্মাহত’।
বাইডেন লিখেছেন, “যেকোনো ধরনের সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য এবং আমাদের সকলকে এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে। আমরা আহত সেনা সদস্য এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রার্থনা করছি।” রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সহিংসতা রুখতে সকল পক্ষকে এক হওয়ার আহ্বান জানান সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
এই ঘটনার পর ওয়াশিংটন ডিসি এবং বিশেষ করে হোয়াইট হাউস চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ এবং ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন চেকপয়েন্টে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।