• রাজনীতি
  • গণতন্ত্র ফেরাতে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই, সব ষড়যন্ত্র রুখে দেয়া হবে: আমানের হুঙ্কার

গণতন্ত্র ফেরাতে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই, সব ষড়যন্ত্র রুখে দেয়া হবে: আমানের হুঙ্কার

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
গণতন্ত্র ফেরাতে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই, সব ষড়যন্ত্র রুখে দেয়া হবে: আমানের হুঙ্কার

ডা. মিলনের ৩৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে বিএনপি নেতার অভিযোগ—'স্লো পয়জনিং' করে খালেদা জিয়াকে হত্যার নীলফক্সা করেছিল বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার; হুঁশিয়ারি দিলেন নির্বাচন বিরোধীদের।

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোর মতোই ফের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ডাক দিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান। শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনের ৩৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করলেন, দেশে গণতন্ত্র (Democracy) ফিরিয়ে আনতে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচন বানচালের যেকোনো 'Conspiracy' বা ষড়যন্ত্র কঠোর হাতে প্রতিহত করার হুঁশিয়ারিও দেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (DMC) প্রাঙ্গণে ডা. মিলনের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ 'Roadmap' নিয়ে এসব কথা বলেন।

নির্বাচন ও ষড়যন্ত্র: আমানের কঠোর বার্তা

নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার আমান উল্লাহ আমান বলেন, "দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন অত্যাবশ্যক। নির্বাচনের পথে নানাভাবে বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে, কিন্তু কেউ এই প্রক্রিয়ায় (Election Process) বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। জনগণ তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে উন্মুখ হয়ে আছে এবং যথাসময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।"

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডা. মিলন, জিহাদ ও নূর হোসেনের মতো বীররা যে স্বপ্ন নিয়ে রক্ত দিয়েছিলেন, গত ১৫ বছরে সেই স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করা হয়েছে। গণতন্ত্রের বদলে দেশে কায়েম করা হয়েছিল একচ্ছত্র আধিপত্য।

'স্লো পয়জনিং' ও খালেদা জিয়া: বিস্ফোরক অভিযোগ

আলোচনা সভায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন আমান। তিনি বলেন, "ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা 'Political Vendetta' চরিতার্থ করতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা (Advanced Medical Treatment) নিতে দেয়নি। তাদের উদ্দেশ্য ছিল পরিষ্কার—'Slow Poisoning'-এর মাধ্যমে তাকে তিলে তিলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া।" এই অমানবিক আচরণের বিচার একদিন ইতিহাসের কাঠগড়ায় হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফ্যাসিবাদ দমনে ছাত্রদলের শপথ

অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবও ছিলেন প্রতিবাদী লয়ে। তিনি ডা. মিলনের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, "বাংলাদেশে আর কখনোই কোনো স্বৈরাচার বা 'Fascist'-এর জন্ম হতে দেয়া হবে না। ছাত্রসমাজ অতীতে যেমন রাজপথে ছিল, ভবিষ্যতেও গণতন্ত্র রক্ষায় পাহারাদার হিসেবে কাজ করবে। যদি কেউ ফের স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ চালাতে চায়, তবে ছাত্রদল তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।"

এ সময় আবেগঘন পরিবেশে শহীদ ডা. মিলনের মা সেলিনা আক্তার বলেন, "আমার ছেলের স্বপ্ন ছিল দেশের সাধারণ মানুষের জন্য একটি উন্নত ও মানবিক 'Healthcare System' বা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা। সেই স্বপ্ন আজও অপূর্ণ। আমি চাই, তার আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়।"

ডা. মিলন ও ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান: এক ঐতিহাসিক অধ্যায়

আজ ২৭ নভেম্বর, ঐতিহাসিক শহীদ ডা. মিলন দিবস। ১৯৯০ সালের এই দিনে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত লগ্নে এরশাদের লেলিয়ে দেয়া পেটুয়া বাহিনীর গুলিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার এলাকায় নির্মমভাবে শহীদ হন ডা. শামসুল আলম খান মিলন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (BMA) তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব।

ডা. মিলনের এই আত্মদানই ছিল এরশাদ সরকারের কফিনে শেষ পেরেক। তার মৃত্যুর পর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং ৬ ডিসেম্বর স্বৈরশাসক এরশাদের পতন ঘটে। গণতন্ত্রের এই বিজয়গাথায় ডা. মিলনের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।

শ্রদ্ধা ও কর্মসূচি

দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি, ছাত্রদল ছাড়াও বাম গণতান্ত্রিক জোট, সিপিবি, বাসদ, জাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন দিনভর নানা কর্মসূচি পালন করছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—কালো ব্যাজ ধারণ, শোক র‍্যালি, ডা. মিলনের কবর ও টিএসসিতে (TSC) অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত। জাসদের উদ্যোগে গুলিস্তানে শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে ‘ডা. মিলনের আত্মবলিদান: ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

Tags: bangladesh politics student politics general election khaleda zia bnp news aman ullah aman dr milon day slow poisoning anti autocracy movement democracy restoration