বৃহস্পতিবার ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই সিলেট নগরীর রাজপথে দেখা মিলল এক ভিন্ন চিত্রের। চেনা ট্রাফিক পুলিশের সেই চিরচেনা রূপ পাল্টে গেছে। গায়ে জড়ানো নতুন ‘ইউনিফর্ম’, মাথায় সাদা টুপি—একদম নতুন অবয়বে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) সদস্যরা। ঢাকার পর এবার দেশের দ্বিতীয় ধাপে পুণ্যভূমি সিলেটে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো ট্রাফিক পুলিশের এই আধুনিক পোশাক।
নগরজুড়ে নতুন আমেজ ও ‘স্পট ভিজিট’
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল থেকেই নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও মোড়গুলোতে নতুন পোশাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় ট্রাফিক সদস্যদের। সরেজমিনে বা ‘স্পট ভিজিট’-এ নগরীর জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, নাইওরপুল, বন্দরবাজার, উপশহর এবং শিবগঞ্জ পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি ‘ট্রাফিক পয়েন্ট’-এ পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত কর্মচঞ্চল। নতুন পোশাকের উজ্জ্বল রঙ এবং আধুনিক ডিজাইন দূর থেকেই পথচারী ও চালকদের নজর কাড়ছে।
এতদিন ট্রাফিক পুলিশের যে প্রচলিত পোশাক ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে এই পরিবর্তনকে বেশ ইতিবাচকভাবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু পোশাকেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আরও গতি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে।
ঢাকার পরেই সিলেটের পালা
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ট্রাফিক পুলিশকে আরও জনবান্ধব এবং আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই এই ‘ইউনিফর্ম’ পরিবর্তন। এর আগে গত ১৫ নভেম্বর রাজধানী ঢাকায় প্রথমবারের মতো ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা এই নতুন পোশাকে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। সেই ধারাবাহিকতায় দেশের দ্বিতীয় মেট্রোপলিটন শহর হিসেবে সিলেটে (এসএমপি) এই নতুন ড্রেস কোড কার্যকর হলো।
নতুন এই ইউনিফর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর ‘ভিজিবিলিটি’ বা দৃশ্যমানতা। উজ্জ্বল রঙের কারণে দিন এবং রাতের বেলায়, এমনকি কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়াতেও দূর থেকে ট্রাফিক পুলিশকে সহজেই শনাক্ত করা যাবে, যা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
নাগরিক প্রতিক্রিয়া: স্মার্ট পুলিশিংয়ের প্রত্যাশা
সিলেটের রাস্তায় নতুন পোশাকে ট্রাফিক পুলিশকে দেখে নগরবাসীর মধ্যে বেশ আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, ইউনিফর্মের এই পরিবর্তন পুলিশের ‘ব্র্যান্ড ইমেজ’ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
নগরীর জিন্দাবাজার এলাকার এক পথচারী বলেন, “পুলিশকে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্মার্ট ও গোছানো লাগছে। আশা করি, পোশাকের এই আধুনিকায়নের সঙ্গে সঙ্গে তাদের সেবার মানও ‘আপগ্রেড’ হবে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, একটি বাহিনীর পোশাক কেবল তাদের পরিচয় বহন করে না, বরং তা তাদের মনোবল ও পেশাদারিত্বের প্রতীক। নতুন এই ‘লুক’ ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের কাজের প্রতি আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে এবং একটি আধুনিক ও সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।