আসন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (BPL) কে সামনে রেখে দল গোছাতে শুরু করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই দলবদল আর সমীকরণের খেলায় উত্তাপ ছড়াচ্ছে ক্রিকেট পাড়া। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বড় চমক দিল চট্টগ্রাম রয়্যালস। দেশের টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের অন্যতম কার্যকরী এবং অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার শেখ মেহেদী হাসানকে দলে ভিড়িয়েছে তারা। বিগত কয়েক আসর রংপুর রাইডার্সের হয়ে মাঠ মাতালেও এবার বন্দরনগরীর দলটির জার্সিতে দেখা যাবে এই ডানহাতি অফস্পিনারকে।
স্পিন ডিপার্টমেন্টে অভিজ্ঞতার মিশেল
শুক্রবার নিজেদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক বিবৃতির মাধ্যমে শেখ মেহেদীকে দলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শেখ মেহেদী এক আস্থার নাম। নতুন বলে নিখুঁত লাইন-লেন্থ, অবিশ্বাস্য কন্ট্রোল এবং পরিমিত গতি ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে ফেলার সক্ষমতা তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কেবল বোলিং নয়, ব্যাট হাতেও লোয়ার অর্ডারে দ্রুত রান তুলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ‘ইমপ্যাক্ট’ রাখার ক্ষমতা রাখেন তিনি।
বিপিএলের ইতিহাসে শেখ মেহেদী বেশ অভিজ্ঞ একজন ক্যাম্পেইনার। সবশেষ টানা তিন আসর তিনি খেলেছেন রংপুর রাইডার্সের হয়ে। তার আগে খুলনা টাইগার্স, ঢাকা প্লাটুন, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও বরিশাল বুলসের মতো দলের হয়েও পারফর্ম করেছেন। এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৮৮টি ম্যাচ খেলে তার ঝুলিতে রয়েছে ৭৩টি উইকেট এবং ব্যাট হাতে সংগ্রহ করেছেন ৯১৫ রান। পরিসংখ্যানই বলে দেয়, কেন তাকে ‘ট্রাম্পকার্ড’ হিসেবে বিবেচনা করছে চট্টগ্রাম।
সরাসরি চুক্তির সমীকরণ ও স্কোয়াড গঠন
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের নিয়ম অনুযায়ী, ড্রাফট বা নিলামের বাইরে প্রতিটি দল সরাসরি চুক্তিতে (Direct Signing) দুইজন করে দেশি এবং বিদেশি ক্রিকেটার দলে নিতে পারবে। এই নিয়মের পূর্ণ ফায়দা লুফে নিয়েছে চট্টগ্রাম। শেখ মেহেদীর আগে তারা দলে ভিড়িয়েছে আরেক বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলামকে। অর্থাৎ, মেহেদী ও তানভীরের অন্তর্ভুক্তি দিয়ে চট্টগ্রাম তাদের দেশি কোটা পূরণ করে ফেলেছে।
বিদেশি ক্যাটাগরিতে তারা এখন পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ করেছে পাকিস্তানের স্পিনার আবরার আহমেদকে। বিদেশি কোটায় সরাসরি চুক্তিতে আরও একজন খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ থাকছে দলটির হাতে। বাকি স্কোয়াড সাজাতে তাদের চোখ রাখতে হবে আগামী ৩০ নভেম্বরের নিলামের দিকে।
সামনে প্লেয়ার্স ড্রাফট ও বিপিএল শিডিউল
আগামী ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফট। এই নিলাম থেকে প্রতিটি দলকে অন্তত ১২ জন দেশি এবং ২ জন বিদেশি ক্রিকেটার কিনতে হবে। এবারের নিলামে দেশি ক্যাটাগরিতে ১৬৬ জন এবং বিদেশি ক্যাটাগরিতে ২৫০ জন ক্রিকেটার নাম লিখিয়েছেন। যদিও তারকা ক্রিকেটারদের অনেকেই সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে নিজেদের দল চূড়ান্ত করে ফেলেছেন, তবুও ড্রাফট টেবিলে দলগুলোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল ইতিমধ্যে টুর্নামেন্টের সূচি ও ভেন্যু চূড়ান্ত করেছে। আগামী ২৬ ডিসেম্বর চায়ের দেশ সিলেটে পর্দা উঠবে এবারের আসরের। দীর্ঘ এক মাসের লড়াই শেষে ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে গ্র্যান্ড ফাইনাল। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ২৪ ডিসেম্বর মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একটি জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
ম্যানেজমেন্টে অভিজ্ঞতার ছোঁয়া
মাঠের ক্রিকেটারদের পাশাপাশি ম্যানেজমেন্ট বা ‘কোচিং স্টাফ’ সাজাতেও পিছিয়ে নেই চট্টগ্রাম রয়্যালস। দলকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে মেন্টর ও টিম ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনকে। তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং ক্রিকেটীয় প্রজ্ঞা দলটিকে মাঠের লড়াইয়ে বাড়তি সুবিধা দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। স্পিন নির্ভর শক্তিশালী স্কোয়াড এবং অভিজ্ঞ ম্যানেজমেন্ট নিয়ে এবার শিরোপার দৌড়ে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম।