ঘরের মাঠে আয়ারল্যান্ডের কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারের চোখ রাঙানি। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় যখন বাংলাদেশ দল মাঠে নামবে, তখন লিটন দাসদের সামনে সমীকরণটা একদম স্পষ্ট—হয় জয়, নয়তো ইতিহাসের পাতায় এক বিব্রতকর অধ্যায়ের সংযোজন। প্রথম ম্যাচে হারের পর সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই স্বাগতিকদের সামনে। দলের পারফরম্যান্স আর কৌশলগত ঘাটতি পোষাতে একাদশে একাধিক রদবদলেরও প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুশীলনে ঘাম ঝরাচ্ছে আইরিশরা, বিশ্রামে বাংলাদেশ
সিরিজ হারের খড়গ মাথার ওপর ঝুললেও ম্যাচের আগের দিন শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) অনেকটা নির্ভার সময় কাটিয়েছে বাংলাদেশ দল। ঐচ্ছিক অনুশীলনেও (Optional Training) দেখা মেলেনি দলের কোনো সদস্যের। উইন্ডিজের মাটিতে হোয়াইটওয়াশ এবং ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচে হারের ধকল কাটাতে টিম ম্যানেজমেন্ট হয়তো শারীরিক প্রস্তুতির চেয়ে মানসিক বিশ্রামের ওপরই বেশি জোর দিয়েছে।
অন্যদিকে, ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা আইরিশ শিবির ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। শুক্রবার দুপুরের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করেই সাগরিকায় ঘাম ঝরিয়েছে পল স্টার্লিংয়ের দল। মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ম্যাচ শেষ করেও তাদের অনুশীলনের তাড়না ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন টেনিস বলে বড় শট খেলার বিশেষ সেশন করে তারা, যা প্রমাণ করে সাগরিকার ব্যাটিং-ফ্রেন্ডলি উইকেটে মোমেন্টাম ধরে রাখতে কতটা সিরিয়াস সফরকারীরা।
ইতিহাস গড়ার হাতছানি আইরিশদের সামনে
পরিসংখ্যান বলছে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের স্বাদ পায়নি আয়ারল্যান্ড। তবে এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুবর্ণ সুযোগ তাদের সামনে। সাগরিকায় শেষ দুই টি-টোয়েন্টিতেই জয় পেয়েছে আইরিশরা, যা তাদের আত্মবিশ্বাসকে তুঙ্গে নিয়ে গেছে। অন্যদিকে, টানা চার টি-টোয়েন্টি হেরে কোণঠাসা হয়ে পড়া টাইগারদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে চাপে ফেলার জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর হতে পারে না। পল স্টার্লিংয়ের দল জানে, ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে সিরিজ জয় নিশ্চিত করা অসম্ভব কিছু নয়।
একাদশে একাধিক পরিবর্তনের গুঞ্জন: কম্বিনেশন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা
প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট, বিশেষ করে পেসার শরিফুল ইসলাম ও তানজিম হাসান সাকিবরা প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। স্পিন অ্যাটাকও আইরিশ ব্যাটারদের ওপর সেভাবে ছড়ি ঘোরাতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় ম্যাচে টাইগার একাদশে ‘Tactical Change’ বা কৌশলগত পরিবর্তনের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, নাসুম আহমেদের জায়গায় একাদশে ফিরতে পারেন অলরাউন্ডার শেখ মেহেদি কিংবা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। দলের বোলিং বৈচিত্র্য বাড়াতে তিন পেসার থিওরি থেকে সরে এসে একজন পেসার কমানোর সাহসী সিদ্ধান্তও নিতে পারে ফিল সিমন্সের দল। এছাড়া উইকেটের পেছনে ও মিডল অর্ডারে শক্তি বাড়াতে নুরুল হাসান সোহানের একাদশে সুযোগ পাওয়ার বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্বকাপের আগে জয়ের ধারায় ফেরার চ্যালেঞ্জ
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে হাতে খুব বেশি সময় নেই। অথচ টিম কম্বিনেশন নিয়ে এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষাই চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। টানা হারের বৃত্তে আটকে থাকা দলের জন্য জয়ের ধারায় ফেরাটা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সাগরিকার উইকেট বরাবরের মতোই ব্যাটারদের পক্ষেই কথা বলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বোলারদের জন্য সুযোগ থাকবে সামান্যই। এমন কন্ডিশনে বোলারদের ডিসিপ্লিন এবং ব্যাটারদের দায়িত্বশীলতাই পারে বাংলাদেশকে সিরিজ হারের লজ্জা থেকে বাঁচাতে। এখন দেখার বিষয়, চাপের মুখে টাইগাররা নিজেদের ‘নার্ভ’ ধরে রেখে সিরিজে সমতা ফেরাতে পারে কি না।