বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (BPL) দ্বাদশ আসরের পর্দা ওঠার আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল দেশের ক্রিকেট অঙ্গন। আগামীকাল রোববার (৩০ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিপিএলের জমজমাট প্লেয়ার্স ড্রাফট বা ‘Auction’। ঠিক তার আগের দিন, শনিবার বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল নিলামের জন্য খেলোয়াড়দের যে ‘Final List’ বা চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতেই যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে বেশ কিছু তারকা ক্রিকেটারের মাথায়। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানো ছাড়াই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে জাতীয় দলের অভিজ্ঞ ওপেনার এনামুল হক বিজয় এবং অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতসহ ৯ জন ক্রিকেটারকে।
ক্রিকেট পাড়ায় জোর গুঞ্জন, গত আসরে ‘ম্যাচ ফিক্সিং’ (Match Fixing) বা স্পট ফিক্সিংয়ের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB)। তবে বিসিবির এমন সিদ্ধান্তে রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এনামুল হক বিজয়। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে তিনি বোর্ডকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন—যদি তিনি দোষী হন, তবে যেন তার প্রমাণ জনসমক্ষে পেশ করা হয়।
বিস্ফোরক বিজয়: চাইলেন সম্মানহানির ব্যাখ্যা
নিলামের চূড়ান্ত তালিকা থেকে নিজের নাম কাটা পড়ার খবর শুনে হতাশ ও ক্ষুব্ধ বিজয় সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তার কণ্ঠে ছিল স্পষ্ট আক্ষেপ এবং প্রতিবাদের সুর। বিসিবির উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন, একজন জাতীয় দলের ক্রিকেটারকে এভাবে কোনো পূর্ব নোটিশ বা প্রমাণ ছাড়া বাদ দেওয়া কতটা পেশাদারিত্বের পরিচয় বহন করে।
মুঠোফোনে একটি জাতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিজয় বলেন, ‘‘এটা যদি প্রমাণ না করতে পারে, তাহলে আমি যে সামাজিকভাবে ‘Disrespect’ বা অসম্মানিত হচ্ছি, সেটার ব্যাখ্যা কে দেবে? আমার বিরুদ্ধে যদি কোনো ‘Evidence’ বা প্রমাণ থাকে, তবে আমি অবশ্যই সেটা জানতে চাই। আমরা কি যা-তা খেলোয়াড়? আমরা কি বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ঘাম ঝরাইনি? আমাদের কি ন্যূনতম সম্মানটুকু প্রাপ্য নয়? আপনি হুট করে নিলাম থেকে একজনকে বাদ দিয়ে দেবেন?’’
ক্যাটাগরি অবনমন থেকে চূড়ান্ত বহিষ্কার
বিজয়ের ক্ষোভের আগুন আরও উস্কে দিয়েছে তার ক্যাটাগরি পরিবর্তনের বিষয়টি। তিনি উল্লেখ করেন, শুরুতে তাকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি মেনে নিতে পারেননি। আর এখন নিলাম থেকেই তাকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে।
বিজয়ের ভাষ্যমতে, ‘‘শুরুতে আমাকে ক্যাটাগরি ‘বি’ থেকে ‘সি’-তে নামিয়ে দেওয়াটাই ছিল চরম অসম্মানের। আর এখন তো একবারে নিলাম থেকেই আউট করে দেওয়া হলো। এসব কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, আমি যেন অবশ্যই দোষী! যদি তাই হয়, তবে প্রমাণ দেখান। এভাবে একজন খেলোয়াড়কে জনসমক্ষে হেয় করার দায়ভার কে নেবে?’’
তিনি আরও জানান, বিষয়টি সুরাহা করতে তিনি খুলনায় অবস্থান করলেও তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। বিসিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তিনি এর বিহিত চান।
বাদ পড়াদের তালিকায় আরও যারা
বিসিবি বা বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফিক্সিং’-এর কথা স্বীকার না করলেও, ভেতরের খবর বলছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিজয় ও মোসাদ্দেক ছাড়াও চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়া অন্য ক্রিকেটাররা হলেন—সানজামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, আলাউদ্দিন বাবু, নিহাদুজ্জামান, মিজানুর রহমান, মনির হোসেন খান এবং একজন বয়সভিত্তিক দলের ক্রিকেটার।
বিসিবি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল যে, দুর্নীতি দমন ইউনিট বা ‘Anti-Corruption Unit’ (ACU)-এর রিপোর্টের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের তালিকার বাইরে রাখা হবে। তবে এই ৯ জনের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, তা এখনো অফিশিয়ালি বা আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষ্কার করেনি বোর্ড। বিজয়ের এই ওপেন চ্যালেঞ্জের পর বিসিবি কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।