টানা দুই হারের ধকল কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল ম্যানচেস্টার সিটি। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে প্রিমিয়ার লিগের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে লিডস ইউনাইটেডকে ৩-২ গোলে হারিয়ে জয়ে ফিরেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে নাটকীয়তার কমতি ছিল না। জোড়া গোল করে সিটির জয়ের নায়ক ফিল ফোডেন, যার শেষ মুহূর্তের স্ট্রাইকে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত হয় পেপ গার্দিওলার দলের।
ইতিহাদে স্বপ্নের শুরু ও আধিপত্য
টানা দুই ম্যাচ হেরে কোণঠাসা সিটি নিজেদের মাঠে শুরু থেকেই ছিল বিধ্বংসী মেজাজে। রেফারি বাঁশি বাজানোর প্রথম মিনিটেই (১ম মিনিট) ডেডলক ভাঙে স্বাগতিকরা। পর্তুগিজ তারকা মাথেউস নুনেসের মাপা ক্রস সিক্স ইয়ার্ড বক্সের বাইরে খুঁজে পায় ফিল ফোডেনকে। ইংলিশ এই মিডফিল্ডারের বাঁ পায়ের জাদুকরী শট লিডসের জালে জড়ালে ১-০ ব্যবধানে লিড নেয় সিটি।
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ২৫তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে সিটিজেনরা। একাডেমি গ্রাজুয়েট নিকো ও’রাইলির কর্নার থেকে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করেন ক্রোয়াট ডিফেন্ডার ইয়োশকো ভার্দিওল। প্রথমার্ধে সিটির বল পজেশন ছিল ৬৩ শতাংশ, যা তাদের একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রমাণ দেয়। তবে ফুটবল যে কেবল পরিসংখ্যানের খেলা নয়, তা প্রমাণ হতে শুরু করে দ্বিতীয়ার্ধে।
রক্ষণভাগের ভুলে লিডসের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন
বিরতির পর সিটির ডিফেন্স লাইনে ফাটল ধরে। ৪৯তম মিনিটে মাথেউস নুনেসের ভুলে বল পেয়ে যান লিডসের ডমিনিক কালভার্ট-লুইন। সুযোগ কাজে লাগিয়ে জোরালো শটে ব্যবধান ২-১ করেন তিনি। এই গোলটি লিডসকে ম্যাচে ফেরার রসদ জোগায়।
ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে নাটকীয় মোড় নেয় খেলা। ডি-বক্সে কালভার্ট-লুইনকে ফাউল করে বসেন প্রথমার্ধের গোলদাতা ভার্দিওল। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান এবং ভার্দিওলকে হলুদ কার্ড দেখান। লিডসের লুকাস এনমেচার নেয়া স্পট কিক (Spot Kick) প্রথমে ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। কিন্তু বল গ্লাভসে জমাতে ব্যর্থ হন তিনি। ফিরতি শটে (Rebound) গোল করে লিডসকে ২-২ সমতায় ফেরান এনমেচা। ইতিহাদের গ্যালারিতে তখন পিনপতন নীরবতা।
শেষ অঙ্কের নাটক ও ফোডেনের বীরত্ব
ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে গড়াচ্ছিল, তখনই জ্বলে ওঠেন ফিল ফোডেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের (Injury Time) প্রথম মিনিটে রায়াম শের্কির পাস ডি-বক্সে খুঁজে পায় ফোডেনকে। একাধিক ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে সিটির জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এই গোলটি কেবল ৩ পয়েন্টই আনেনি, বরং দলের হারানো আত্মবিশ্বাসও ফিরিয়ে দিয়েছে।
এই জয়ের ফলে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করল সিটি। ১৩ ম্যাচে ৮ জয় ও ১ ড্রয়ে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে তারা। অন্যদিকে, ১২ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে আর্সেনাল। নিউক্যাসল ও লেভারকুসেনের কাছে হারের পর এই জয় গার্দিওলার শিষ্যদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় এক টনিক হিসেবে কাজ করবে।