২১ হাজার ১৩৪ প্রবাসীর গ্রেপ্তার
সৌদি আরবে বসবাস আইন (Residence Law), শ্রম আইন (Labour Law) এবং সীমান্ত আইন (Border Security) লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়েছে। সম্প্রতি পরিচালিত এই সমন্বিত অভিযানে ২১ হাজারেরও বেশি প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোবাবার (৩০ নভেম্বর) গালফ নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০ থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহে দেশজুড়ে একাধিক সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়, যাতে মোট ২১ হাজার ১৩৪ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আইন লঙ্ঘনের ডেটা অ্যানালাইসিস
গ্রেপ্তারকৃত প্রবাসীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তিনটি আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে:
বসবাস আইন লঙ্ঘন: গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১৩ হাজার ১২৮ জনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে, যা মোট গ্রেপ্তারের অর্ধেকের বেশি।
সীমান্ত নিরাপত্তা লঙ্ঘন: ৪ হাজার ৮২৬ জনের বিরুদ্ধে এই আইন ভঙ্গের অভিযোগ।
শ্রম আইন ভঙ্গ: ৩ হাজার ১৮০ জনের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই ধরপাকড়ের কারণে বর্তমানে দেশটিতে মোট ৩১ হাজার ৯১ জন বিদেশির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এদের মধ্যে পুরুষ ২৯ হাজার ৫৩৮ জন এবং নারী ১ হাজার ৫৫৩ জন।
অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা: ইথিওপিয়ান ও ইয়েমেনিদের সংখ্যা বেশি
গালফ নিউজ জানিয়েছে, অভিযানে সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করার সময় এক হাজার ৬৬৭ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক হওয়া অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ৫৭ শতাংশ ইথিওপিয়ান, ৪২ শতাংশ ইয়েমেনি এবং ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। অভিযান চলাকালে ৩১ জন সৌদি আরব থেকে অবৈধভাবে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ধরা পড়ে।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২২ হাজার ৭১ জনকে তাদের নিজ দেশের ডিপ্লোম্যাটিক মিশন (Diplomatic Mission)-এ ভ্রমণ নথি সংগ্রহের জন্য পাঠানো হয়েছে। ৫ হাজার ৭৮ জনকে ভ্রমণ ব্যবস্থাপনার অধীনে পাঠানো হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহে ১১ হাজার ৬৭৪ জনকে সৌদি আরব থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
আইন লঙ্ঘনকারীদের সহায়তাকারীদের জন্য কঠোর শাস্তি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিযান চলাকালে আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা বিভিন্নভাবে আইন ভঙ্গকারী প্রবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় বা কর্মসংস্থান দিয়ে সহায়তা করছিলেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যেসব ব্যক্তি আইন লঙ্ঘনকারীদের আশ্রয়, পরিবহন বা যেকোনো সহযোগিতা করবে তাদের ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ১০ লাখ রিয়াল জরিমানা এবং ব্যবহৃত যানবাহন বা সম্পত্তি জব্দ করা হবে। এই কড়াকড়ি লেবার মার্কেট ও দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য সৌদি সরকারের একটি কঠোর পদক্ষেপ।