• রাজনীতি
  • পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি: শেখ হাসিনা, রেহানা ও টিউলিপের মামলার রায় আজ, যাবজ্জীবন প্রত্যাশায় রাষ্ট্রপক্ষ

পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি: শেখ হাসিনা, রেহানা ও টিউলিপের মামলার রায় আজ, যাবজ্জীবন প্রত্যাশায় রাষ্ট্রপক্ষ

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
পূর্বাচল প্লট দুর্নীতি: শেখ হাসিনা, রেহানা ও টিউলিপের মামলার রায় আজ, যাবজ্জীবন প্রত্যাশায় রাষ্ট্রপক্ষ

ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে পূর্বাচলে ১০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দের অভিযোগ; সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার দাবি দুদকের, সর্বোচ্চ শাস্তির অপেক্ষায় দেশ।

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা এবং যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত চাঞ্চল্যকর দুর্নীতি মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার (Abuse of Power) করে ১০ কাঠা সরকারি প্লট অবৈধভাবে বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (ACC)।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম এই জনগুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করবেন। রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে এবং আদালতের কাছে সকল আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে ‘যাবজ্জীবন কারাদণ্ড’ (Life Imprisonment) প্রত্যাশা করছে।

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

গত ২৫ নভেম্বর এই মামলার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন (Arguments) শেষ হয়। এরপর বিচারক রায় ঘোষণার জন্য ১ ডিসেম্বর তারিখ ধার্য করেন। মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (Public Prosecutor) মীর আহম্মেদ সালাম গণমাধ্যমকে জানান, প্লট বরাদ্দে জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগে শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে।

পাবলিক প্রসিকিউটর বলেন, “আমরা আদালতে সকল সাক্ষ্য-প্রমাণ বা Evidence উপস্থাপন করেছি। আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাতের চেষ্টা করেছেন। আইনের দৃষ্টিতে এটি গুরুতর অপরাধ। তাই আমরা সকল আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি, অর্থাৎ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রত্যাশা করছি।”

মামলার প্রেক্ষাপট ও তদন্ত প্রতিবেদন

মামলার নথিপত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রশাসনিক অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা আয়তনের একটি প্লট অবৈধভাবে বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়।

পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া বিস্তারিত তদন্ত শেষে গত ১০ মার্চ আদালতে চার্জশিট (Charge Sheet) বা অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তদন্তে আরও দুইজনের নাম যুক্ত হওয়ায় মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭ জনে।

অভিযুক্তদের তালিকায় যারা রয়েছেন

এই মামলায় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছাড়াও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন—সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

এছাড়া আমলাতান্ত্রিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন—জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম এবং উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ।

বিচারিক কার্যক্রম ও সাক্ষ্যগ্রহণ

গত ৩১ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন (Framing of Charges) করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালতের সামনে মোট ৩২ জন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি প্রদান করেন। সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং নথিপত্র পর্যালোচনার ভিত্তিতে আজ এই হাই-প্রোফাইল মামলার রায় ঘোষিত হতে যাচ্ছে, যা দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Tags: sheikh hasina dhaka court life imprisonment corruption case tulip siddiq purbachal plot sheikh rehana verdict today acc case power abuse