গভীর রাতে মহাসচিবের সফর
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে (Evercare Hospital) চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে দলের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir) সোমবার (১ ডিসেম্বর) গভীর রাতে তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান।
বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মহাসচিবকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছান। এই গভীর রাতের সফর তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে দলের উদ্বেগ ও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।
তবে সেখান থেকে ফিরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যবিষয়ক কোনো সুনির্দিষ্ট বার্তা (Health Update) গণমাধ্যমকে দেননি। তাঁর এই নীরবতা নেত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে এবং দলের কর্মীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে তুলেছে।
হাসপাতালের নিরাপত্তা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা
বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়া দেশি-বিদেশি অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি Medical Board-এর তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং সর্বোচ্চ মনোযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে এভারকেয়ার হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Security System) আরও কঠোর করা হয়েছে। প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকা ব্যারিকেড (Barricade) দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে এবং বিশেষ নিরাপত্তা বলয় (Security Cordon) তৈরি করা হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগ ও সহায়তার প্রস্তাব
এদিকে, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) একটি পোস্ট করে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মোদি লেখেন, "বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিষয়ে জেনে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের জনজীবনে বহু বছর ধরে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। ভারত সম্ভাব্য সব সহায়তা দিতে প্রস্তুত—যেভাবে পারি।" ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই মানবিক সহায়তার প্রস্তাব দুই দেশের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।