• বিনোদন
  • দীপিকার '৮ ঘণ্টার নিয়ম' বনাম মাধুরীর '১২ ঘণ্টার শিফট': বলিউডের কর্ম-সংস্কৃতিতে নতুন মেরুকরণ

দীপিকার '৮ ঘণ্টার নিয়ম' বনাম মাধুরীর '১২ ঘণ্টার শিফট': বলিউডের কর্ম-সংস্কৃতিতে নতুন মেরুকরণ

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
দীপিকার '৮ ঘণ্টার নিয়ম' বনাম মাধুরীর '১২ ঘণ্টার শিফট': বলিউডের কর্ম-সংস্কৃতিতে নতুন মেরুকরণ

'আমি ভীষণ ওয়ার্কহোলিক, কাজ ছাড়া কিছু বুঝি না': সহকর্মী দীপিকার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েও নিজের ১২ ঘণ্টার কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত

বলিউড (Bollywood) অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের সম্প্রতি দেওয়া এক মন্তব্য ঘিরে যখন গোটা চলচ্চিত্র জগতে কাজের সময়সীমা (Working Hours) সংক্রান্ত এক নতুন বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়েছে, ঠিক তখনই নিজের বহু-দশকের অভিজ্ঞতা এবং পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার করলেন বর্ষীয়ান তারকা মাধুরী দীক্ষিত। দীপিকার কঠোর ‘দৈনিক ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ না করার’ ঘোষণার বিপরীতে মাধুরীর মন্তব্য যেন এই বহু-আলোচিত ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স’ (Work-Life Balance) বিতর্কে একটি গভীর মাত্রা যোগ করল।

বিতর্কের সূত্রপাত: দীপিকার '৮ ঘণ্টা'র দাবি

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দীপিকা পাড়ুকোন (Deepika Padukone) স্পষ্টভাবে জানান, তিনি কোনোভাবেই দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করবেন না। চলচ্চিত্র শিল্পের মতো সময়-সংবেদনশীল (Time-Sensitive) ক্ষেত্রে একজন প্রথম সারির অভিনেত্রীর এই মন্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

অনেকেই কর্মীদের সুস্থতা (Employee Wellness) এবং কাজের উপযুক্ত পরিবেশের পক্ষে দীপিকার এই দাবিকে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন। আবার অন্যদিকে, কেউ কেউ এই সিদ্ধান্তকে ‘পেশাদারত্বের অভাব’ (Lack of Professionalism) হিসেবে সমালোচনা করে এটিকে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কঠিন বাস্তবতার পরিপন্থী বলে মনে করেছেন। এই তীব্র মেরুকরণের মাঝেই নিজের বহু-বছরের কাজের নীতি নিয়ে মুখ খুললেন বলিউডের ‘ড্যান্সিং কুইন’।

মাধুরীর অকপট স্বীকারোক্তি: ১২ ঘণ্টার শিফট

এই বিতর্কের আবহে এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মাধুরী দীক্ষিত (Madhuri Dixit)। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে তিনি জন্মগতভাবেই একজন ‘ওয়ার্কহোলিক’ (Workaholic)। কাজের প্রতি নিজের তীব্র নিবেদন তুলে ধরতে গিয়ে তিনি তাঁর আসন্ন প্রোজেক্ট (Project) ‘মিসেস দেশপান্ডে’র উদাহরণ দেন।

মাধুরী বলেন, “যখন ‘মিসেস দেশপান্ডে’র শুটিং চলছিল, তখন আমি ঘড়ির কাঁটা দেখিনি। সত্যি বলতে, প্রায় প্রতিদিনই ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কাজ করতে হয়েছে। আমি নিজেকে অন্যদের চেয়ে আলাদা ভাবি— আমি ভীষণ ওয়ার্কহোলিক। কাজ ছাড়া অন্য কিছু আমি বুঝি না।” কাজের প্রতি মাধুরীর এই অবিচল প্রতিশ্রুতিই তাঁর দীর্ঘ ও সফল কেরিয়ারের (Career) ভিত্তি বলে মনে করা হয়।

পেশাদার সৌজন্যতা ও ব্যক্তিগত সীমানা

তবে নিজে কঠোর কর্মনিষ্ঠ হলেও, মাধুরী দীক্ষিত কিন্তু তাঁর সহকর্মী দীপিকার দাবির সরাসরি বিরোধিতা করেননি। বরং একজন প্রফেশনাল (Professional) হিসেবে তিনি দীপিকার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন।

মাধুরীর কথায়, ‘হয়তো আমি অনেকটাই অন্য প্রকৃতির মানুষ। কিন্তু কারো যদি এই ক্ষমতা থাকে যে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের বেশি কাজ করতে চান না, এবং সে কথা প্রকাশ্যে বলতে পারেন, তবে তা তিনি বলতেই পারেন। প্রত্যেকেরই নিজের জীবন রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের কথা বলার অধিকারও রয়েছে।’

মাধুরীর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, বলিউডের এই দুই প্রথম সারির তারকা কাজের সময়সীমা (Work Duration) নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করলেও, তাঁরা একে অপরের ব্যক্তিগত সীমানাকে (Personal Boundary) এবং সিদ্ধান্তকে সমানভাবে সম্মান জানান। দীপিকার ‘৮ ঘণ্টা’র নিয়ম এবং মাধুরীর ‘১২ ঘণ্টারও বেশি কাজের নীতি’— এই দুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের বর্তমান কর্পোরেট কালচার (Corporate Culture) এবং কর্মীদের অধিকারের উপর একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Tags: celebrity news film industry bollywood news work life balance deepika padukone work ethic madhuri dixit mrs deshpande work hours workaholic