অনলাইন বেটিং অ্যাপের (Online Betting App) মাধ্যমে অর্থ পাচারের (Money Laundering) অভিযোগে এবার ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) নজরে পড়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নেহা শর্মা। গতকাল মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) এই মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তারা।
কংগ্রেস নেতা অজিত শর্মার মেয়ে নেহা শর্মাকে এই বিষয়ে আগেই নোটিশ পাঠিয়ে তলব করেছিল ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি মূলত জানতে চায়, বিতর্কিত এই বেটিং প্ল্যাটফর্মের (Betting Platform) সঙ্গে তার সম্পর্ক ঠিক কী এবং তিনি অর্থের বিনিময়ে কী ধরনের প্রচারমূলক কাজ (Promotional Work) করেছিলেন।
অবৈধ লেনদেন খতিয়ে দেখছে ইডি
জানা গেছে, প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (Prevention of Money Laundering Act- PMLA)-এর অধীনে অভিনেত্রীর বয়ান নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছেন, বেটিং অ্যাপটির প্রচার ও প্রসারে তিনি কীভাবে যুক্ত ছিলেন এবং এর বিনিময়ে কোনো অবৈধ লেনদেন (Illegal Transaction) হয়েছে কি না। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি 'ক্রুক' খ্যাত এই অভিনেত্রী।
অর্থ পাচারের এই মামলায় শুধু নেহা শর্মাই নন, ইডি-র রাডারে (Radar) রয়েছেন বিনোদন ও ক্রীড়া জগতের আরও বেশ কয়েকজন রথী-মহারথী। এর আগে এই একই অভিযোগে সোনু সুদ, বিজয় দেবরাকোন্ডা, প্রকাশ রাজ, উর্বশী রাউতেলা, রানা দাগ্গুবাতি এবং ক্রিকেটার শিখর ধাওয়ান ও যুবরাজ সিংকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
বৈধ গেমিং বনাম অবৈধ বেটিং
উল্লেখ্য, এই মামলার তদন্ত চলাকালে গত আগস্টে দক্ষিণী তারকা বিজয় দেবরাকোন্ডাকে যখন জেরা করা হয়, তখন তিনি দাবি করেছিলেন যে, তিনি 'এ-২৩' (A-23) নামে একটি বৈধ গেমিং অ্যাপের (Gaming App) প্রচার করেছিলেন, কোনো বেটিং অ্যাপের নয়।
বিজয় দেবরাকোন্ডার যুক্তি ছিল— ভারতে বেটিং অ্যাপ ও গেমিং অ্যাপ আলাদা ক্যাটাগরির (Category) এবং গেমিং অ্যাপ অনেক রাজ্যেই বৈধ। তিনি তার ব্যাংক লেনদেনসহ চুক্তির সব নথি ইডিকে জমা দিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় সংস্থাটি এই মামলায় বলিউডের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির ভূমিকা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং অর্থ পাচারের নেটওয়ার্ক (Network) উন্মোচনে গভীরভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।