বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় দ্বৈরথ ‘ফিনালিসিমা’ (Finalissima)। লাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরা আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপ সেরা স্পেনের মধ্যকার এই লড়াই দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ফুটবল বিশ্ব। অথচ এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়েই এবার তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। আর যদি ম্যাচটি অনুষ্ঠিতও হয়, তবে সেখানে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির মাঠে নামার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। খোদ আর্জেন্টাইন সুপারস্টার নিজেই এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অনিশ্চয়তার মুখে ফিনালিসিমার ভবিষ্যৎ
ফিনালিসিমার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইউরো চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে শিরোপা ঘরে তুলেছিল আলবিসেলেস্তেরা। সদ্য সমাপ্ত কোপা আমেরিকায় (Copa America) ফের চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় পরবর্তী ফিনালিসিমার টিকিটও নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। এবার তাদের প্রতিপক্ষ ইউরো ২০২৪ জয়ী শক্তিশালী স্পেন।
তবে দুই মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নের এই লড়াই কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ফিফা ক্যালেন্ডার বা আন্তর্জাতিক ফুটবলের ঠাসা সময়সূচির কারণে উপযুক্ত স্লট খুঁজে পাওয়াটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বছরের শুরুর দিকে কনমেবল (CONMEBOL) সদর দপ্তরে রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (RFEF) এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (AFA) কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সম্ভাব্য সময় নিয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
বিশ্বকাপের আগে ঝুঁকির মুখে ফিকশ্চার
ফেডারেশনের বৈঠকে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহকে ফিনালিসিমার জন্য সম্ভাব্য সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। অর্থাৎ, উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ বিশ্বকাপের মাত্র আড়াই মাস আগে। বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে এমন একটি বড় ম্যাচ আয়োজন করা লজিস্টিক এবং খেলোয়াড়দের ফিটনেসের কথা বিবেচনা করে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
এই বিষয়টি নিয়েই ইএসপিএন (ESPN) ফুটবলের সঙ্গে কথা বলেছেন লিওনেল মেসি। সেখানে তিনি যা বলেছেন, তা আর্জেন্টিনা ও মেসি ভক্তদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় দুঃসংবাদ। তিনি স্পষ্টই জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ওই সময়ে এক ম্যাচের এই প্রতিযোগিতায় তাঁর পক্ষে খেলা সম্ভব হবে না।
মেসির মন্তব্যে জল্পনা: ম্যাচ কি আদৌ হবে?
সাক্ষাৎকারে লিওনেল মেসি শুধুমাত্র নিজের না খেলার কথাই জানাননি, বরং ফিনালিসিমা আয়োজন নিয়েই গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। মেসির ভাষ্যমতে, ‘না, সত্যি বলতে, আমি খেলব না। এমনকি এই ম্যাচটি আদৌ হবে কি না, সেটাও নিশ্চিত নয়। আমার মনে হয় তারা (আয়োজকরা) নিজেরাও জানে না এটি শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াবে কি না।’
কেন তিনি খেলতে পারবেন না, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ইন্টার মায়ামির এই ফরোয়ার্ড। তিনি বলেন, ‘আসল সত্যটা হলো, ওই সময়ে মাঝপথে প্রাক-মৌসুমের (Pre-season) খেলা এবং ক্লাবের ব্যস্ত সূচি আমার সবকিছু পরিবর্তন করে দেয়। তাই ওই সময়ে জাতীয় দলের হয়ে এমন একটি ম্যাচ খেলা বেশ কঠিন।’
মেসির এই মন্তব্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (MLS) সময়সূচির দিকে ইঙ্গিত করে, যা ইউরোপীয় ফুটবলের ক্যালেন্ডার থেকে ভিন্ন। বিশ্বকাপের আগে নিজেকে ইনজুরি মুক্ত রাখা এবং ক্লাবের হয়ে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে ফিনালিসিমায় মেসির উপস্থিতি এখন প্রায় অসম্ভব।
ইতিহাস ও পরিসংখ্যানের পাতায় আর্জেন্টিনা
ফিনালিসিমার গত আসরে মেসি গোল না পেলেও, জাদুকরী পারফরম্যান্সে দুটি ‘অ্যাসিস্ট’ (Assist) করেছিলেন, যা আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জয়ে সহায়তা করেছিল। এই প্রতিযোগিতাটি প্রথম শুরু হয়েছিল ১৯৮৫ সালে, যা তখন ‘আর্তেমিল ফ্রাঙ্কি ট্রফি’ নামে পরিচিত ছিল। আর্জেন্টিনা প্রথমবার এই শিরোপা জিতেছিল ১৯৯৩ সালে কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে, স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিনে ইয়ামাল বনাম লিওনেল মেসির দ্বৈরথ দেখার স্বপ্ন ফুটবল রোমান্টিকদের মনে উঁকি দিচ্ছিল। তবে মেসির সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই স্বপ্ন এখন ফিকে হতে শুরু করেছে।