• রাজনীতি
  • ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চাই: আসন সমঝোতা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে 'মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব' নিয়ে মঞ্চের উদ্বেগ

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চাই: আসন সমঝোতা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে 'মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব' নিয়ে মঞ্চের উদ্বেগ

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চাই: আসন সমঝোতা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে 'মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব' নিয়ে মঞ্চের উদ্বেগ

জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতাদের আলোচনা সভা; আসন ভাগাভাগি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান, জামায়াত ও আরপিও সংশোধন নিয়েও প্রশ্ন।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন (National Election) অনুষ্ঠানের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন 'গণতন্ত্র মঞ্চের' শীর্ষ নেতারা। তবে একইসঙ্গে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা (Seat Sharing) নিয়ে তাদের 'মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব' (Psychological Distance) বাড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (০৪ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণতন্ত্র মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত 'বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ও গণতন্ত্রের সংগ্রাম' শীর্ষক আলোচনা সভায় মঞ্চের নেতারা এসব কথা বলেন। সভার শুরুতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করা হয়।

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের অনিবার্যতা ও আসন সমঝোতার জল্পনা

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, "দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে যে জাতীয় নির্বাচন হবে, তাতে কারো সন্দেহ নেই। এই নির্বাচনে আমরা বিএনপির সাথে যুগপৎ ধারায় আসন সমঝোতা করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো।"

তবে তিনি স্বীকার করেন যে, আসন সমঝোতা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে এখনো কোনো চূড়ান্ত আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, "আসন সমঝোতা নিয়ে বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর আমরা মঞ্চগতভাবে সিদ্ধান্ত নিব যে—নির্বাচন তাদের সাথে করবো, নাকি আমরা মঞ্চগতভাবে করবো। তবে আমাদের তিনশ আসনে নির্বাচন করার প্রার্থী প্রস্তুত করা আছে।"

এ সময় তিনি মঞ্চের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা ছাড়াই বিএনপির এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করার সমালোচনা করেন।

মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব বৃদ্ধি নিয়ে মঞ্চের শঙ্কা

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, "জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দল যখন তাদের বন্ধু ও মিত্র বাড়াতে খুলনার কৃষ্ণ নন্দী পর্যন্ত চলে গেছে, বিএনপি তখন তার যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের সাথে অপ্রয়োজনীয় মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি করছে।"

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "এভাবে চলতে থাকলে এই মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব একসময়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে রাজনৈতিক দূরত্বে (Political Distance) পর্যবসিত হতে পারে, এটা সমীচীন হবে না।" তিনি নির্বাচনকে প্রলম্বিত বা বানচাল করার জন্য একটি বিশেষ গোষ্ঠী তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, দেশের এই পরিস্থিতিতে দ্রুত একটা অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া সমাধান হবে না। তিনি মঞ্চের শরিকদের প্রতি আহ্বান জানান, "বিএনপির সাথে আমাদের আসন সমঝোতা যাই হোক—আমাদের নিজেদের মতো করে, নিজেদের শক্তির উপর দাঁড়িয়েই নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। আমরা আমাদের তিনশ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করবো।"

আরপিও সংশোধন ও জামায়াত প্রসঙ্

সাইফুল হক নির্বাচন কমিশনের (EC) সাম্প্রতিক কার্যক্রমেও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ইসি রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা না করে বেশিরভাগ দলের মতামত উপেক্ষা করে আরপিও (RPO) সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এটা বিশেষ কোনো দলকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার জন্যই করা হয়েছে কিনা। তিনি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রমাণের ওপর জোর দেন, অন্যথায় নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে নতুন সংকট তৈরি করবে।

ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু জামায়াতে ইসলামীর (Jamaat-e-Islami) অপতৎপরতার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "তারা মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশকে রাজাকারের বাংলাদেশ বানাতে চায়। গণতন্ত্র মঞ্চ এবং মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে থাকতে তাদের এই দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড কখনো বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না।"

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি'র সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে 'দক্ষিণপন্থি এবং নব্য লুটপাটকারিদের দখলে' চলে যাওয়া বলে মন্তব্য করেন এবং গণতন্ত্র মঞ্চকে ঐক্যবদ্ধভাবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার আহ্বান জানান।

Tags: national election seat sharing gonotontro moncho bnp alliance shaheed uddin mahmud swapon mahmudur rahman manna saiful haq political turmoil