পর্দার প্রেম যে কখন বাস্তব জীবনের সীমানা ছাড়িয়ে মহাকাব্য হয়ে ওঠে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ (DDLJ)। মুক্তির তিন দশক পার করে আজও অমলিন রাজ-সিমরানের সেই জাদুকরী রসায়ন। সেই রসায়নকে সম্মান জানিয়েই এবার বিশ্বমঞ্চে রচিত হলো নতুন ইতিহাস। লন্ডনের বিনোদন জগতের হৃদপিণ্ড হিসেবে পরিচিত ‘লেস্টার স্কোয়ার’ (Leicester Square)-এ স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিল শাহরুখ খান ও কাজলের আইকনিক ব্রোঞ্জ মূর্তি। এই প্রথম কোনো ভারতীয় সিনেমার চরিত্র এমন আন্তর্জাতিক ‘ল্যান্ডমার্ক’-এ অমরত্ব পেল, যা বলিউড ও ভারতীয় সিনেমার জন্য নিঃসন্দেহে এক বিশাল ‘মাইলস্টোন’ (Milestone)।
লেস্টার স্কোয়ারে বৃষ্টির ছোঁয়ায় নস্টালজিয়া
মূর্তি উন্মোচনের মাহেন্দ্রক্ষণে লন্ডনের আকাশ ছিল মেঘলা, ঝরছিল টিপটিপ বৃষ্টি। কিন্তু সেই ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টিও ম্লান করতে পারেনি উপস্থিত হাজারো ভক্তের উচ্ছ্বাস। কালো স্যুট আর চোখে সিগনেচার কালো রোদচশমায় ‘বলিউড বাদশাহ’ শাহরুখ খান ছিলেন চিরচেনা মেজাজে। পাশে শাড়িতে অনবদ্য কাজল যেন সেই নব্বইয়ের দশকের সিমরান হয়েই ধরা দিলেন। ব্রোঞ্জে গড়া মূর্তিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ‘ডোলি সাজাকে রাখ না’ গানের সেই কালজয়ী পোজ। ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে নিজেদের মূর্তির সামনেই হুবহু সেই পোজ দিয়ে ছবি তুললেন দুই তারকা। এর আগে লেস্টার স্কোয়ারের ‘সিনস ইন দ্য স্কোয়ার’ (Scenes in the Square) ট্রেইলে হ্যারি পটার, মেরি পপিন্স বা মিস্টার বিনের মতো চরিত্ররা জায়গা পেলেও, ভারতীয় কোনো চরিত্রের ব্রোঞ্জ মূর্তির অভিষেক এই প্রথম।
শাহরুখ-কাজল: আবেগের নাম যখন ‘ডিডিএলজে’
অনুষ্ঠানে শাহরুখ খান এবং কাজল দুজনকেই বেশ উৎফুল্ল মেজাজে দেখা যায়। উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে শাহরুখ বলেন, ‘‘আমরা খুব বিশুদ্ধ হৃদয় নিয়ে ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ তৈরি করেছিলাম। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল শুধু একটি প্রেমের গল্প বলা। আমরা দেখাতে চেয়েছিলাম, ভালোবাসা কীভাবে সব বাধার প্রাচীর (Barriers) ভেঙে দিতে পারে এবং পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে। ৩০ বছর ধরে ছবিটি যে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে, তার মূলে রয়েছে এই ভালোবাসাই। আজও দর্শকদের হৃদয়ে আমার যে পরিচিতি, তার অনেকটাই এই সিনেমার দান।’’
অন্যদিকে কাজল নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘‘৩০ বছর পরও ডিডিএলজে যে পরিমাণ ভালোবাসা পাচ্ছে, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য (Unbelievable)। লন্ডনে এই মূর্তি উন্মোচনের দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছে, আমরা যেন ইতিহাসের একটি অংশকে নতুন করে পুনরুজ্জীবিত করছি। এটি এমন একটি গল্প যা সত্যিই এক জেনারেশন থেকে অন্য জেনারেশনে প্রবাহিত হচ্ছে।’’
কালজয়ী সিনেমার ৩০ বছরের রাজত্ব
১৯৯৫ সালের ২০ অক্টোবর আদিত্য চোপড়ার পরিচালনায় মুক্তি পেয়েছিল ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এটি কেবল একটি ছবি নয়, বরং রোমান্টিক ঘরানার এক ‘টেক্সটবুক’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ছবিতে শাহরুখ-কাজল ছাড়াও অমরেশ পুরী, ফরিদা জালাল, অনুপম খের, এবং মন্দিরা বেদির মতো অভিনেতাদের পারফরম্যান্স আজও দর্শকদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। মুম্বাইয়ের মারাঠা মন্দিরে দীর্ঘতম সময় ধরে প্রদর্শিত হওয়ার রেকর্ড থেকে শুরু করে লন্ডনের বুকে এই স্থায়ী সম্মান—‘ডিডিএলজে’ প্রমাণ করল, সত্যিকারের ক্লাসিক বা ‘কাল্ট মুভি’ কখনো পুরনো হয় না।