ঢাকাই সিনেমার ‘গ্ল্যামার গার্ল’ পরীমণি বরাবরই স্রোতের বিপরীতে চলা এক নাম। তিনি বাঁধনহারা, যখনই মন চায় যান্ত্রিকতার শিকল ছিঁড়ে বেরিয়ে পড়েন নিজের মতো করে। নিয়মের বেড়াজাল তাকে কখনোই আটকে রাখতে পারেনি। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। পৌষের আগাম বার্তা আর শীতের আমেজ গায়ে মাখতে প্রিয় শহর ঢাকা থেকে সাময়িক ‘Break’ নিলেন এই লাস্যময়ী চিত্রনায়িকা। গন্তব্য—শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত গ্রামের বাড়ি।
এক্সপ্রেসওয়েতে উচ্ছল পরী
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরের তপ্ত রোদ আর শীতের হিমেল হাওয়ার মিশেলে ঢাকা ছাড়েন পরীমণি। যাত্রাপথে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে (Expressway) তার উচ্ছল উপস্থিতি এখন ‘Social Media’-তে ভাইরাল। নিজের ফেসবুক পেজে একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করেছেন তিনি, যা মুহূর্তেই নেটিজেনদের নজর কেড়েছে।
ছবিতে দেখা যায়, শুভ্র সাদা রঙের একটি বিলাসবহুল গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি পোজ দিচ্ছেন। পরনে জিন্স, টি-শার্ট আর মানানসই জ্যাকেট—যেন ‘Winter Fashion’-এর এক অনবদ্য প্রদর্শনী। কখনো হাসিমুখে ‘V-sign’ দেখাচ্ছেন, আবার কখনো দু’হাত প্রসারিত করে নীল আকাশ আর সবুজ প্রকৃতিকে আলিঙ্গন করছেন। তার চোখেমুখে ছিল মুক্তির আনন্দ আর শহুরে ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলার প্রশান্তি।
ক্যাপশনে নস্টালজিয়ার ছোঁয়া
ছবিগুলোর সঙ্গে পরীমণি যে ক্যাপশন জুড়ে দিয়েছেন, তাতেই স্পষ্ট তার এই আকস্মিক সফরের উদ্দেশ্য। তিনি লিখেছেন, “ভালো থেকো আমার প্রিয় শহর! যাই, একটু পিঠা খেয়ে আসি!”
এই ছোট্ট বাক্যেই লুকিয়ে আছে গভীর আবেগ। ইট-পাথরের শহরের ‘Hustle and Bustle’ ছেড়ে তিনি ছুটছেন মাটির টানে, মায়ের হাতের পিঠার ঘ্রাণ নিতে। প্রতি বছর শীত এলেই পরীমণি তার ব্যস্ত শিডিউল থেকে সময় বের করে ছুটে যান গ্রামের বাড়িতে। শৈশবকে নতুন করে খুঁজে ফেরা আর গ্রামীণ জীবনের সতেজতা উপভোগ করাই তার এই ভ্রমণের মূল লক্ষ্য।
নেটিজেনদের কৌতূহল
পরীমণির এই পোস্ট ঘিরে ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে কৌতূহলের শেষ নেই। মুহূর্তের মধ্যেই হাজারো ‘React’ আর মন্তব্যে ভরে ওঠে তার টাইমলাইন। নেটিজেনদের ধারণা, নাড়ির টানে তিনি হয়তো ছুটেছেন বরিশালে নিজের পৈতৃক নিবাসে। সেখানে শীতের পিঠা-পুলি উৎসব আর গ্রামীণ আবহে কটা দিন একান্তই নিজের মতো করে কাটাবেন এই ‘Diva’। ভক্তরা মন্তব্যের ঘরে তাকে নিরাপদ ভ্রমণের শুভকামনা জানিয়েছেন।
শীতের শুরুতে পরীমণির এই যাত্রা প্রমাণ করে, তিনি যতই তারকা খ্যাতির শিখরে থাকুন না কেন, দিনশেষে তার মন পড়ে থাকে সেই চিরচেনা গ্রাম বাংলার স্নিগ্ধতায়।