ফুটবল বিশ্বের নজর আজ ছিল ওয়াশিংটন ডিসির দিকে। অপেক্ষার প্রহর শেষ। বেজে গেল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের (FIFA World Cup) রণবাদ্য। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের ভাগ্যলিপি বা ‘ড্র’ (Draw) সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় রাতে যুক্তরাষ্ট্রের কেনেডি সেন্টারে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হলো ৪৮টি দলের গ্রুপ। আর এই ভাগ্য নির্ধারণী রাতে জানা গেল, ‘ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন’ আর্জেন্টিনা লড়বে ‘গ্রুপ জে’ থেকে, আর সেলেসাও বা ব্রাজিল দলের ঠিকানা হয়েছে ‘গ্রুপ সি’।
ওয়াশিংটনে ভাগ্য নির্ধারণের রাত
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ১৮৮ দিন বাকি। ঠিক এই সময়েই ওয়াশিংটন ডিসির কেনেডি সেন্টারে বসেছিল তারার মেলা। ফিফা কর্মকর্তা, কিংবদন্তি ফুটবলার এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় এই ‘ড্র সেরিমনি’ (Draw Ceremony)। ২০২৬ সালের জুন মাসে শুরু হতে যাওয়া এই আসরটি ফিফার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়। কারণ, এই প্রথমবার ৩২ দলের পরিবর্তে ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। উত্তর আমেরিকার তিন বিশাল দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা জুড়ে চলবে এই ফুটবল মহাযজ্ঞ।
মেসি-নেইমারদের গন্তব্য
ড্র-এর ফলাফল সামনে আসতেই শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, যারা লিওনেল মেসির নেতৃত্বে কাতারে সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিল, তারা পড়েছে ‘গ্রুপ জে’-তে (Group J)। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আলবিসিলেস্তেদের গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হতে হবে এই গ্রুপ থেকেই।
অন্যদিকে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল রয়েছে ‘গ্রুপ সি’-তে (Group C)। সেলেসাওরা তাদের হেক্সা মিশন বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে এই গ্রুপ থেকে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই লাতিন আমেরিকান পরাশক্তির গ্রুপ নির্ধারণ হয়ে যাওয়ার পর ভক্তদের মাঝে শুরু হয়ে গেছে উত্তেজনা। কে কার মুখোমুখি হবে, ‘নকআউট স্টেজে’ (Knockout Stage) যাওয়ার পথ কতটা কঠিন বা সহজ হবে—তা নিয়েই এখন সরগরম ফুটবল বিশ্ব।
৪৮ দলের নতুন ইতিহাস ও চ্যালেঞ্জ
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ হতে যাচ্ছে আকার ও আয়োজনে সর্বকালের সবচেয়ে বিশাল। ৪৮টি দলকে মোট ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে থাকবে ৪টি করে দল। এই বিশাল ফরম্যাটের কারণে ম্যাচের সংখ্যাও বাড়বে উল্লেখযোগ্যভাবে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, দলের সংখ্যা বাড়ায় এবারের আসরে ‘আন্ডারডগ’ (Underdog) দলগুলোর চমক দেখানোর সুযোগ যেমন বাড়বে, তেমনি বড় দলগুলোর জন্য ‘মার্জিন অব এরর’ বা ভুলের সুযোগ কমে আসবে।
শুক্রবার রাতের এই ড্র অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কার্যত শুরু হয়ে গেল বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক কাউন্টডাউন। এখন শুধু মাঠের লড়াই শুরুর অপেক্ষা।